এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > ক্লাবই নেই, অথচ বছরের পর বছর মোটা টাকা সরকারি অনুদান নেতাদের? প্রশ্ন উঠছে শাসকদলের অন্দরেই!

ক্লাবই নেই, অথচ বছরের পর বছর মোটা টাকা সরকারি অনুদান নেতাদের? প্রশ্ন উঠছে শাসকদলের অন্দরেই!


প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর খেলাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিবছরই রাজ্যের ক্লাবগুলোকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে বেশ কিছু অর্থ সাহায্য দিয়ে থাকেন। চলতি বছরে করোনার আবহের মধ্যেও ক্লাবগুলো এই সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়নি। তবে ক্লাব গুলিতে অর্থ সাহায্যের ব্যাপারে অনেক সময়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ইতিপূর্বেই বিভিন্ন মহল থেকে উঠে এসেছিল।

সম্প্রতি ভুয়ো ক্লাবের নাম করে বেসে কয়েক বছর ধরে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ সামনে এলো শাসক দলের জনৈক নেতার নামে। অথচ, তিনি নাকি এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। যা নিয়ে শাসকদলের অন্দরেও শুরু হলো চাপান উতোর।

সংবাদ সূত্রে জানা গেছে গত মঙ্গলবার নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ গ্রামে বামপন্থী সংগঠন ডিওয়াইএফ এর পক্ষ থেকে কালীগঞ্জের বিডিওর কাছে মিথ্যে ক্লাবের নাম করে সরকারি টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, নদীয়ার পানিঘাটা পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্গত রাধাকান্তপুর গ্রামে ‘অগ্নিবীণা সংঘ’ ও ‘রাধাকান্তপুর যুবক সমিতি’ নামের দুটি ক্লাব গত ২০১৬ সাল থেকে শুরু করে গত ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকারের আর্থিক সাহায্যের টাকা লাভ করেছে ।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই ক্লাবদুটির কোন বাস্তব অস্তিত্বই নেই। স্থানীয় তৃণমুল নেতাকর্মীদের সঙ্গে গ্রামের মানুষেরাও জানিয়েছেন যে তাঁরা এই ক্লাবদুটির নাম কোনদিনই শোনেন নি। ডিওয়াইএফ এর আনা এই অভিযোগে এই ক্লাব দুটির সম্পাদক হিসেবে রিঙ্কূু রহমান ও জিয়াউল রহমানের নামও জড়িয়ে পড়েছে।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

বামপন্থী সংগঠন ডিওয়াইএফ-এর কালিগঞ্জ ব্লক সভাপতি জিয়াউর রহমান এই আর্থিক তছরূপী প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্যে বলেছেন, “দুই ক্লাবের সম্পাদকের নাম রিঙ্কূু রহমান ও জিয়াউল রহমান, আবার তৃণমূলের ব্লক যুব সভাপতির নামও তাই। এই দুই ব্যক্তি উনিই কিনা তা উনিই ভাল বলতে পারবেন। তবে আমাদের বিষয়টি শুধু মাত্র একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। সরকারের টাকা এই ভাবে তছরুপ করা চলবে না। প্রশাসনকে বের করতে হবে, ওই দুই ব্যক্তি কে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।”

তবে গতকাল বৃহস্পতিবার কালীগঞ্জের তৃণমূল যুব সভাপতি জিয়াউর রহমান ক্লাবের সম্পাদক হিসেবে তাঁর নাম ওঠা আর্থিক কেলেঙ্কারির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “আমি দেবগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা, রাধাকান্তপুর গ্রামের কোনও ক্লাবের সম্পাদক কেন হতে যাব? ওই অভিযোগ আমি দেখেছি, ওই দুই ব‍্যক্তি আমি নই। ওরা ২০১৬ সালে টাকা পাওয়ার অভিযোগ করেছে আর আমি যুব সভাপতির পদ পাই ২০১৭ সালে। এখানে ভিত্তিহীন ভাবে আমাকে জড়ানো হচ্ছে, এদের বিরুদ্ধে আমি আইনি ব‍্যবস্থা নেব।”

প্রসঙ্গত ২০১৬ সালে তৃণমূলের কালীগঞ্জের ব্লক সভাপতি জিয়াউল রহমান ছিলেন না, সে সময়ে ব্লক সভাপতি ছিলেন রাজা রায় চৌধুরী। এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ” “আমি এই ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই যুক্ত নই। সম্পাদক হিসেবে জিয়াউল রহমানের নাম আছে এবং ওঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। তছরুপ হয়ে থাকলে ওঁরাই তা করেছেন।”

ভুয়ো ক্লাবের নাম করে সরকারি অর্থের এরকম আত্মসাতের ঘটনায় তৃণমূল দলের একটি বিরাট অংশ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখতে শুরু করেছেন, সেইসঙ্গে দাবি করেছেন এর যথাযথ প্রতিকারের।কালীগঞ্জ তৃণমূলের ব্লক কমিটির সদস্য সাদেরুল শাহনাজ এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “দলের লোকের নাম যদি এই রকম ঘটনার সঙ্গে জড়ায়, তাতে দলের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা দলের ক্ষতি করবে। নেতৃত্বের উচিত, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা।” অন্যদিকে নদীয়া জেলা তৃণমূলের কোঅর্ডিনেটর নাসির উদ্দিন আহমেদ এই তছরুপের ঘটনার যথাযোগ্য বিচারের প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “এর আগেও দল দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। যেই জড়িয়ে থাক, প্রমাণ পেলে দল অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।” অন্যদিকে কালীগঞ্জের বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখে এই জালিয়াতির সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ” “যদি কেউ অন্যায় করে থাকে, দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!