এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নোবেলজয়ীকে বেলাগাম আক্রমণ করতে গিয়ে প্যাঁচে বিজেপি? সামাল দিতে নতুন নির্দেশিকা!

নোবেলজয়ীকে বেলাগাম আক্রমণ করতে গিয়ে প্যাঁচে বিজেপি? সামাল দিতে নতুন নির্দেশিকা!


কিছুদিন আগেই নোবেলজয়ী হিসেবে নাম ঘোষণা হয়েছে বঙ্গসন্তান অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যে ঘটনায় তার সাফল্যে গোটা বঙ্গবাসী উচ্ছ্বসিত এবং আবেগান্বিত হলেও প্রথম থেকেই বিজেপি নেতাদের গলায় সেই অভিজিতবাবুর সম্পর্কে তিক্ততার সুর লক্ষ্য করা গেছে।

কখনও বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তো কখনও বা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ এই বঙ্গসন্তানের নোবেল পুরস্কার পাওয়াকে নিয়ে তারা কম কটাক্ষ করেননি। তবে তাদের এই কটাক্ষ যে তাদের দিকেই বিপাক হিসেবে ধেয়ে আসতে পারে, তা বুঝতেই পারেননি বিজেপি নেতারা। বাংলা এবং বাঙ্গালীর ভাববাবেগ দখল করতে যখন বিজেপি উঠে পড়ে লেগেছে, ঠিক তখনই বাংলা থেকে নোবেল পাওয়া অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তাদের এই কটুক্তির সুর যে বাঙালির ভাবাবেগে আঘাত হানবে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল প্রায় সকলেই।

তার তাইতো বিজেপির তরফে যখন এই ব্যাপারে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অর্ধেক বাঙালি সহ নানা কটূক্তিকে বেঁধে আক্রমণ করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই ব্যাপারে সরব হতে দেখা যাচ্ছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে। তৃণমূলের তরফে দলের মহাসচিব তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সারাদেশকে গর্বিত করেছেন। কিন্তু বিজেপির এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, ওরা কতটা সংকীর্ণ মনোভাব প্রকাশ করেন।”

যেক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে সেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে থাকতে দেখা গেছে বেশিরভাগ বাঙালিকে বলে দাবি বিশ্লেষকদের। অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের এহেন আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা তার জবাব দিয়েছেন সেই অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিদেশীনিকে বিয়ে করলেই যদি নোবেল পাওয়া যায়, তাহলে বিজেপি নেতারা সেটা করছেন না কেন! এসব ভুলভাল কথা বলে তারা নিজেদের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না।”

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তবে তৃণমূল এবং অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের তরফ থেকে বিজেপির এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করা হলেও তা নিয়ে এতদিন বিচলিত ছিলেন না বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বরা। কিন্তু এবার সেই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বঙ্গসন্তান অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে মোদির সাক্ষাতে চরম অস্বস্তিতে পড়লেন মুরলীধর লেনের গেরুয়া কর্তারা।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বঙ্গসন্তান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁকে সাক্ষাতের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে এরূপ বঙ্গসন্তানের সম্পর্কে প্রথম থেকেই তাদের বেলাগাম মন্তব্য যে এবার তাদেরকে চরম অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, তা বুঝে আপত্তিকর মন্তব্য থেকে এখন নিজেদের কিছুটা সরিয়ে নিতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।

এদিন এই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্য বিজেপির এক নেতা বলেন, “আমরা সবাইকে বোঝাচ্ছি যাতে তারা অভিজিৎবাবুর সমালোচনা না করেন। রাজ্যে যে আবেগ রয়েছে, এসব তার পরিপন্থী। এতে দলের ক্ষতি হবে।” অন্যদিকে এতদিন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কিছুটা বেলাগাম মন্তব্য করলেও এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের গলাতেও শোনা গেছে সাবধানী সুর। তিনি বলেন, “সবাই অভিজিতবাবুকে নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত দিচ্ছেন। ব্যক্তিভেদে সেগুলো আলাদা হচ্ছে। আমার স্থির বিশ্বাস দেশ তথা সারা বিশ্ব যে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য তিনি নিশ্চয়ই মূল্যবান পরামর্শ দেবেন।”

আর এখানেই একাংশের প্রশ্ন, তাহলে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দিন নোবেল পাওয়ার পর তাকে “অর্ধেক বাঙালি” বলে যেভাবে দীলিপবাবু কটাক্ষ করেছিলেন, তখন কি তার মনে পড়েনি যে, অর্থনীতিতে প্রবল কৃতিত্বের জন্যই অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন! তাহলে কি দলের নেতা তথা প্রধানমন্ত্রীর সাথে অভিজিৎবাবুর দেখা করাতেই তার প্রতি সমস্ত রাগ গলে গেল বিজেপির! প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!