এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > এবার রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ বাংলার ইমামরা! বাড়ছে জল্পনা

এবার রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ বাংলার ইমামরা! বাড়ছে জল্পনা

করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা করতে গিয়ে বর্তমানে সরকার এবং রাজভবনের মধ্যেকার দূরত্ব প্রত্যক্ষ করছে গোটা বঙ্গবাসী। একের পর এক ইস্যুতে রাজ্যকে চিঠি দিয়ে, কটাক্ষ করে শোরগোল তুলে দিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে সেই রাজ্যপালকে দেওয়া হয়েছে কড়া চিঠি‌। আর সবশেষে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের চিঠির জবাবে রাজভবনের প্রধান ব্যক্তি যে চিঠি দিয়েছেন, তা সত্যিই নজিরবিহীন।

যেখানে তিনি লিখেছেন, রাজ্যের সংখ্যালঘু তোষনের কথা। তার চিঠিতে উঠে এসেছে, সম্প্রতি দিল্লির নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশ থেকে অনেকে রাজ্যে ফিরলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন “সাম্প্রদায়িক প্রশ্ন করবেন না” সেই কথা। আর রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে এই সমস্ত কথা লেখায় রাজ্য সরকার চরম অস্বস্তিতে পড়েছে বলেই দাবি করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

আর এবার রাজ্যপালের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগ তুললেন ওয়েস্টবেঙ্গল ইমাম অ্যাসোসিয়েশন। সূত্রের খবর, এদিন রাজ্যপালকে লেখা একটি চিঠিতে এই সংগঠনের চেয়ারম্যান মহম্মদ ইয়াহিয়া লিখেছেন, “নিজামুদ্দিন মারকাজের ঘটনা দিল্লি পুলিশ এবং বিদেশ মন্ত্রকের আওতায় আসে। এটা সম্পূর্ণ ওদের ব্যাপার। আমরা সকলেই জানি দেশের মানুষের মারকাজের ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।”

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তিনি আরও জানিয়েছেন, “যদি নিজামুদ্দিন কর্তৃপক্ষ কোনো দোষ করে, আইন তার ব্যবস্থা নেবে। পেশায় একজন আইনজীবী হিসেবে আমি আশাবাদী, আপনারা সকলেই বিষয়টা নিয়ে অবগত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সংবাদ সংস্থার মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছিলেন, সাম্প্রদায়িক প্রশ্ন করবেন না। এই উত্তরেই বা কি ভুল রয়েছে! মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার মতামত প্রকাশের অধিকার আছে।”

আর জগদীপ ধনকর সংখ্যালঘু সমাজকে নিয়ে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোষনের অভিযোগ করেছিলেন, এদিন সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা জগদীপ ধনকরের উদ্দেশ্যে ইমামদের সংগঠন যে অভিযোগ করল, তা নিঃসন্দেহে বঙ্গ রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলবে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। জানা গেছে, চিঠিতে ইমামদের সংগঠন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এখন যেহেতু লকডাউন চলছে, তাই রাজভবনে তারা বিক্ষোভ করতে যেতে পারছে না।

তবে দাবি যদি তাদের মানা না হয়, তাহলে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন করা হবে। অনেকে বলছেন, সংখ্যালঘুদের ব্যাপারটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যপাল চিঠি দেওয়ার পরেই এই বিষয় নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিল বেঙ্গল ইমাম এসোসিয়েশন। যার ফলে করোনা ভয়াবহতার পরিস্থিতির মধ্যে কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেল যে, ইমামদের এই সংগঠন রাজ্যপালের বক্তব্যে মোটেই সন্তুষ্ট নয়। যদিও বা এই ব্যাপারে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিজেপির সায়ন্তন বসু।

তিনি বলেন, “এটা বড় ষড়যন্ত্রের অংশ। সবাই জানেন বাংলার বিরাট অংশের মানুষ নিজামুদ্দিন মারকাজে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অনেককে ট্রেস করা যায়নি। আবার অনেকে কোয়ারেন্টাইনে আছেন।” তবে ইমামদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এই চিঠি রাজভবনে পাঠানো হলেও, সোমবার তা দেখা হবে। আর সেই চিঠি দেখবার পর রাজ্যপাল কোনো প্রতিক্রিয়া দেন কিনা এবং সেই প্রতিক্রিয়াকে ঘিরে আবার শোরগোল ওঠে কিনা, তার দিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!