Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

প্রথম দফার ভোট মিটতেই অমিত শাহের ‘বিস্ফোরক’ দাবি! ১১০-এর হিসেবে কোন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন চাণক্য?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-প্রথম দফার ভোট গ্রহণ শেষ হতে না হতেই বঙ্গ রাজনীতির পারদ চড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ সকালে নিউটাউনের হোটেল থেকে বেরিয়ে তিনি যে দাবি করলেন, তাতে কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। শাহের স্পষ্ট ঘোষণা— “১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। আমরা পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই সরকার গড়ব।”

ভোটের পরদিন সকালেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য নেহাতই আলটপকা নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শাহ জানিয়েছেন, ভোটের দিন রাতভর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বসে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। বুথস্তরের রিপোর্ট এবং গ্রাউন্ড রিয়ালিটি খতিয়ে দেখার পরেই এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী গেরুয়া শিবির। শাহের কথায়, “সারা রাত ধরে আমরা তথ্য বিশ্লেষণ করেছি। মানুষ যেভাবে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন, তাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমাদের সরকার গড়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।”

প্রথম দফার এই আসনগুলির মধ্যে জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলগুলিতে বিজেপির ফল ছিল নজরকাড়া। শাহের ১১০-এর বেশি আসনের দাবি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিজেপি তাদের পুরনো দুর্গ ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন ভোটব্যাঙ্কেও থাবা বসাতে সফল হয়েছে। তবে এই দাবিকে পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না ঘাসফুল শিবির। তাদের দাবি, শাহের এই মন্তব্য আসলে হতাশ কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটা মরিয়া চেষ্টা মাত্র।

সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে কোনও দলই জয়ের সরকারি দাবি করতে পারে না। কিন্তু রাজনৈতিক পরিসরে নিজেদের অনুকূলে হাওয়া তৈরি করতে এমন ‘সাইকোলজিক্যাল গেম’ নতুন কিছু নয়। শাহের এই মন্তব্য বিরোধী শিবিরে কতটা চাপ তৈরি করবে, নাকি ব্যালট বাক্সে অন্য কোনও রসায়ন লুকিয়ে আছে, তা জানা যাবে ফল প্রকাশের দিনেই।

আপাতত শাহের এই ‘১১০+’ ফর্মুলা রাজ্য রাজনীতির অন্দরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল। এখন দেখার, শাহের এই আগাম বিশ্লেষণ কতটা বাস্তবে রূপ পায়।

Exit mobile version