প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক সময়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নাম ছিল ‘অধিকারী পরিবার’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি আন্দোলন, বিশেষ করে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় যিনি ছিলেন নেত্রীর ছায়াসঙ্গী এবং প্রধান ভরসা, সেই প্রবীণ জননেতা শিশির অধিকারী এখন ঘাসফুল শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় ‘বিভীষিকা’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজ্যে ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে। শুধু তাই নয়, নিজের ছেলে তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত শক্ত করতে তিনি এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুরে প্রচারে নামার ঘোষণাও করেছেন।
বাংলার রাজনীতির প্রবীণ চাণক্য হিসেবে পরিচিত শিশির অধিকারী একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের স্তম্ভ ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তনে আজ তিনি তৃণমূলের ‘অপশাসনে’র বিরুদ্ধে সরব। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ এখন প্রকৃত পরিবর্তনের অপেক্ষায়। শিশিরবাবু অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, “রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতি ও তোলাবাজিতে বীতশ্রদ্ধ। আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি একাই ২০০-র বেশি আসন পাবে এবং সোনার বাংলা গড়ার কাজ শুরু করবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শিশির অধিকারীর মতো একজন অভিজ্ঞ নেতার এই ভবিষ্যদ্বাণী বিজেপি কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, শিশির অধিকারী এবার সরাসরি রণক্ষেত্রে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রে ছেলে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে ভোট প্রচারে যাবেন। উল্লেখ্য, ভবানীপুরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড় হিসেবে গণ্য করা হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে মমতার একসময়ের ‘ভরসা’ যখন বিজেপির হয়ে সওয়াল করবেন, তখন তা তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটল ধরাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শিশিরবাবুর কথায়, “শুভেন্দু যেভাবে মানুষের হকের লড়াই লড়ছে, তাতে মেদিনীপুর থেকে কলকাতা— সর্বত্রই মানুষ পদ্মফুলকেই বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছে।”
এক সময় যে হাত মমতার মাথায় আশীর্বাদের মতো ছিল, আজ সেই হাতই পদ্ম শিবিরের ঝাণ্ডা তুলে ধরতে মরিয়া। মেদিনীপুরের শান্তিকুঞ্জ থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ এখন কলকাতার রাজপথ অবধি পৌঁছে গেছে। ভবানীপুরের অলিতে-গলিতে যখন শিশির অধিকারীর অভিজ্ঞ কণ্ঠস্বর বিজেপির পক্ষে প্রতিধ্বনিত হবে, তখন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। প্রবীণ এই নেতার দাবি যদি সত্যি হয়, তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নবান্নের অলিন্দে বড় ধরনের রদবদল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
