প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রিষড়ায় প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী শাকির আলির গ্রেফতারি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এর শিকড় লুকিয়ে রয়েছে আজ থেকে ৩ বছর আগের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ে। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে হুগলির রিষড়া ও শ্রীরামপুর স্টেশন চত্বরে যে ভয়ানক সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়েছিল, সেই মামলাতেই এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, ওই অশান্তির নেপথ্যে অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে নাম উঠে এসেছে এই তৃণমূল কাউন্সিলরের।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের শুরুতে রিষড়ায় রামনবমীর একটি শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পরপর কয়েকদিন ধরে চলে ব্যাপক বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুর। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রিষড়া ও শ্রীরামপুর স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনে বোমাবাজির জেরে দীর্ঘক্ষণ হাওড়া মেইন লাইনে ট্রেন চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় একাধিক গাড়ি ও দোকানপাট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় জারি করতে হয়েছিল ১৪৪ ধারা এবং বন্ধ ছিল ইন্টারনেট পরিষেবা।
রাজ্য পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ঘটনার ভয়াবহতা এবং রেলের সম্পত্তি নষ্টের বিষয়টি খতিয়ে দেখে গোটা ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের সেই নির্দেশের পরেই রিষড়া হিংসার এফআইআর (FIR) নিজেদের হাতে নেয় এনআইএ।
এনআইএ সূত্রে খবর, বিগত তিন বছর ধরে এই মামলার তদন্তে নেমে বহু স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর আগে এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ঘটনার দিনের ডিজিটাল এভিডেন্স (ফোন কল রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজ) ঘেঁটে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, সেদিনের সেই হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করার পেছনে এবং উন্মত্ত জনতাকে উস্কানি দেওয়ার ক্ষেত্রে নেপথ্য ভূমিকা ছিল স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শাকির আলির। সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই আজ সকালে তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে জালে তুলল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
