প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বছরের পর বছর ধরে ২১ জুলাইয়ের শহিদদের নাম করে শুধু সস্তা রাজনীতির তাস খেলা হয়েছে, মঞ্চ বেঁধে আবেগঘন লম্বা চওড়া ভাষণ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে ওই হতভাগ্য পরিবারগুলো কী পেয়েছে? সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সেই বঞ্চনার রাজনীতির মুখোশ খুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের প্রায় ৭০০ পাতার তদন্ত রিপোর্ট পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী আজ যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন, তাতে এক ধাক্কায় বিরোধীদের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিধানসভার ভেতরে তথ্যপ্রমাণ সহ তুলে ধরেন যে, ২১ জুলাইয়ের সেই অন্ধকার দিনে পুলিশের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত এবং নিহতদের পরিবারকে সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশন স্পষ্ট ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্লজ্জতা হলো, শহিদদের নাম ভাঙিয়ে যারা ক্ষমতায় টিকে রইল, সেই বিগত তৃণমূল সরকার কমিশনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিহতদের পরিবারকে মাত্র ২ লক্ষ টাকা করে দিয়ে দায় সেরেছিল! অর্থাৎ, শহিদের রক্তের মূল্যের চেয়েও রাজকোষ বাঁচানো এবং নিজেদের আখের গোছানোই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বুক ঠুকে বড় ঘোষণা করে জানান, বিগত সরকার শহিদ পরিবারগুলির সঙ্গে যে বঞ্চনা করেছে, তার অবসান ঘটাবে বর্তমান বিজেপি সরকার। কমিশনের প্রস্তাব মেনে বকেয়া এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্য এবার সরাসরি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল’ (Chief Minister’s Relief Fund) থেকে দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পর বিধানসভার অভ্যন্তরে বিজেপি বিধায়কদের করতালিতে ফেটে পড়ে চারপাশ।
টাকা দিয়েই দায় শেষ করছেন না মুখ্যমন্ত্রী, বরং ওই কালো দিনের আসল নেপথ্য নায়কদের মুখোশ খুলে দিতে আইনি লড়াইয়ের রাস্তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আইন অনুযায়ী তদন্ত হয়েছিল বলে কমিশন মনে করে না।” পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর যথার্থতা যেমন প্রমাণিত হয়নি, তেমনই কার নির্দেশে পুলিশ গুলি চালিয়েছিল বা মহাকরণ থেকে কেন সব ফাইল হারিয়ে গেল—তার কোনো জবাব মেলেনি।
তাই এই গভীর ষড়যন্ত্রের শেষ দেখতে এবং প্রকৃত বিচার সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী আজ প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে ঘোষণা করেছেন—২১ জুলাইয়ের ঘটনায় অন্যায় বিচার পাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত যে কেউ চাইলে এখন নতুন করে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করতে পারেন।রাজনৈতিক মহলের মতে, ২১ জুলাইয়ের ঠিক প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ডবল ধামাকা—২৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা এবং নতুন এফআইআর-এর সবুজ সংকেত—বিরোধী শিবিরের সমস্ত রাজনৈতিক সমীকরণকে ধূলিসাৎ করে দিল। যারা শহিদ দিবসকে নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করত, এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর তাদের মুখে যে চুনকালি পড়ল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
