প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই বাংলার দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাকযুদ্ধ এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আসন সংখ্যা নিয়ে মমতার আত্মবিশ্বাসের পাল্টা দিতে গিয়ে শুভেন্দু যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
ভোট পরবর্তী এক ভিডিও বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস কেবল সরকার গড়বে না, বরং প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি আসন পাবে। মমতার কথায়, “তৃণমূল ২২৬ কেন, ২৩০টি আসনও পেতে পারে।” সেই সঙ্গে বিরোধী শিবিরের জয় নিয়ে হওয়া বিভিন্ন সমীক্ষাকে ‘বিজেপির তৈরি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ২৩০টি আসনের দাবির ঠিক পরেই পাল্টা তোপ দাগেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল নেত্রীর দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, “উনি তো ৩০০ বলেছেন। এত টেন্স হয়ে যাচ্ছেন কেন উনি? ওনার তো ঘুমানো দরকার।” শুভেন্দু অধিকারীর মতে, পরাজয়ের আতঙ্কে মুখ্যমন্ত্রী মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েছেন, আর সেই কারণেই তিনি অবাস্তব সংখ্যার কথা বলছেন। বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, আসন্ন ৪ মে-র ফলাফলে তৃণমূলের পতন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল প্রকাশের ঠিক আগে ভোটার এবং দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতেই দুই পক্ষ এই ধরণের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই বা ‘সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার’ চালাচ্ছে। যেখানে বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা (Exit Polls) রাজ্যের ক্ষমতা দখল নিয়ে মিশ্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘২৩০’ এবং শুভেন্দুর ‘বিশ্রামের পরামর্শ’ ভোটের উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আগামী ৪ মে বাংলার মানুষের রায় বাক্সবন্দি হয়ে বাইরে আসবে। তখনই পরিষ্কার হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৩০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে নাকি শুভেন্দু অধিকারীর ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়ে বাংলায় নতুন রাজনৈতিক ভোরের সূচনা হবে। তবে ভোটের ময়দান ছেড়ে এখন দুই নেতার ব্যক্তিগত আক্রমণই বাংলার চায়ের আড্ডার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
