প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- একসময় সিঙ্গুরে শিল্প স্থাপনের ব্যাপক সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের ফলে টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্য ছাড়তে হয়েছে। তারপর সিঙ্গুরের যে কৃষিজমি, সেখানে যেমন কৃষি কাজ হচ্ছে না, ঠিক তেমনই শিল্প স্থাপনের ব্যাপারেও কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না বর্তমান সরকারকে। তবে গতকাল যখন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী সেই সিঙ্গুরের মাটিতে গিয়েছিলেন, তখন সকলেই আশা করেছিলেন যে, তিনি শিল্প সম্ভাবনা বা শিল্প স্থাপনের ব্যাপারে কোনো বড় বার্তা দেবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে সেরকম কিছু শোনা যায়নি বলে সকলেই হতাশ, এরকম একটি প্রচার বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে। তবে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদী একটা বিষয় কিন্তু গতকালই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পশ্চিমবাংলায় আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ঠিক না হলে কোনো কিছুই সম্ভব নয়। অর্থাৎ যাদের যা বোঝার, তারা এই কথা থেকেই বুঝে নেবেন। কিন্তু যাদের সমালোচনা করাই একমাত্র অভ্যাস, তারা প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে বিজেপিকে চাপে ফেলতে প্রধানমন্ত্রী সেরকম কোনো আশানুরূপ কথা শিল্প নিয়ে বলেননি, এইরকম কথা প্রচার করবেন, তা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে সেই সমস্ত বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে গতকাল সুকান্ত মজুমদার সেই প্রধানমন্ত্রী সভা থেকেই যে কথা বলেছেন, তাতে যথেষ্ট উজ্জীবিত সিঙ্গুরবাসী।
গতকাল সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখার আগেই সেই সভায় বক্তব্য রাখেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আর তিনি তার বক্তব্যে রীতিমত তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। পাশাপাশি সিঙ্গুরের মানুষ যা প্রত্যাশা করছে, নিজের বক্তব্যে সেই প্রত্যাশা পূরণ করে জনতাকে সিঙ্গুরে শিল্প স্থাপন এবং টাটা গোষ্ঠীর আগমন নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ।
এদিন সিঙ্গুরের সভা থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে টাটার শিল্প স্থাপন নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “সিঙ্গুরের কারখানা চলে গিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর গুজরাটে। আজকে ভারতীয় জনতা পার্টির সৈনিক হিসেবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনারা ২৬ এ নরেন্দ্র মোদীর সরকার বাংলায় গঠন করুন। টাটাকে আমরা ফিরিয়ে আনবই। এই সিঙ্গুরের মাটিতেই আনব। টাটা ফিরবে, শিল্প হবে। যারা এই বাংলা থেকে ভিন রাজ্যে চলে গিয়েছেন, সেই সমস্ত সন্তানরা ফিরে আসবে।”
