Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

২৯৪ আসনেই ‘একাই একশো’ দিদি! বাকিরা কি তবে শুধুই ঝাণ্ডাধারী? মমতার ঘোষণায় তৃণমূলের অন্দরে কি তবে যোগ্যতার আকাল?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রবিবাসরীয় দুপুরে পুরুলিয়ার তপ্ত রোদে মানবাজারের সভা থেকে এক অদ্ভুত ‘বিস্ফোরণ’ ঘটালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিয়ে তিনি ফের সেই পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে সাফ জানিয়ে দিলেন— “কে প্রার্থী হয়ে দাঁড়াচ্ছে, দেখার প্রয়োজন নেই। ২৯৪ কেন্দ্রে প্রার্থী আমি একাই।” অর্থাৎ, সহজ বাংলায় বলতে গেলে, ঘাসফুল শিবিরের বাকি কয়েক হাজার ছোট-বড় নেতা, মন্ত্রী বা পাড়ার ‘দাদা’দের ভূমিকা এখন কেবলই পোস্টার মারা আর মিছিলে লোক জমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে হাসাহাসি শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ঘাসফুল শিবিরের নিচুতলার নেতাদের ওপর থেকে খোদ নেত্রীরই ভরসা কর্পূরের মতো উড়ে গিয়েছে? গত কয়েক বছরে বঙ্গে একের পর এক দুর্নীতি আর কেলেঙ্কারির যে ‘পাহাড়’ তৈরি হয়েছে, তাতে প্রতিটি স্থানীয় নেতার গায়েই এখন কালির ছিটে। বিশ্লেষকদের মতে, দিদি খুব ভালো করেই জানেন যে, এবার অনেক আসনেই তাঁর দলের স্থানীয় নেতাদের মুখ দেখালে মানুষ সপাটে দরজা বন্ধ করে দেবেন। আর সেই ভয় থেকেই আবার সেই পুরনো ‘ইমোশনাল’ কার্ড— “সব আমিই, আমাকে দেখেই ভোট দাও!”

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণত দলগত আদর্শ এবং স্থানীয় প্রার্থীর কাজের নিরিখে ভোট হওয়ার কথা। কিন্তু তৃণমূলের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ঠিক উল্টো। মমতা যেভাবে নিজেকে একমাত্র মুখ হিসেবে তুলে ধরলেন, তা আসলে দলের সাংগঠনিক দেউলিয়া পনারই নামান্তর। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিং শুরু হয়েছে— “তবে কি বাকি ২৯৩ জন শুধুই শো-পিস? তাঁদের কি টিকিট কাটার আগে কেবল ঝাণ্ডা ধরার ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে?” রাজনৈতিক টিপ্পনী হলো, দলের যে কোনো নেতার মুখ সামনে আনলেই যখন ‘নেগেটিভ ইমেজ’ বা দুর্নীতির তকমা সেঁটে যাওয়ার ভয় থাকে, তখন দিদি একাই নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে বাজি ধরছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতে আর কতদিন এই ‘আমিই সব’ মার্কা একনায়কতন্ত্রের সুর বাজানো যাবে?

মমতার এই ঘোষণায় দলের নিচুতলার কর্মীদের মনেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদি ২৯৪ আসনেই দিদি প্রার্থী হন, তবে বাকিদের গুরুত্ব কোথায়? এই মন্তব্য কি আদতে তৃণমূলের বাকি বিধায়ক বা প্রার্থীদের যোগ্যতাকে জনসমক্ষে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া নয়?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যখন কোনো নেত্রী তাঁর দলের সমস্ত পদাধিকারীকে পাশ কাটিয়ে নিজেকেই একমাত্র বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেন, তখন বুঝতে হবে দলের অন্দরে পচন ধরেছে এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থার আকাল দেখা দিয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই কি তবে সব দায় নিজের কাঁধে নিয়ে বাকিদের আড়াল করতে চাইছেন নেত্রী?

সব মিলিয়ে মানবাজারের সভা থেকে মমতার এই “একাই প্রার্থী” হওয়ার ডাক আসলে তৃণমূলের চরম সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং বিকল্পহীনতারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। নিজের দলের নেতাদের ওপর বিন্দুমাত্র ভরসা না রেখে একাই মাঠে নামার ডাক দিয়ে মমতা আসলে বুঝিয়ে দিলেন, ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে এখন ‘সব ভালো নেই’। ২০২৬-এর নির্বাচনে মানুষ কি কেবল ‘মুখ’ দেখেই ভুলবেন, নাকি ‘যোগ্য নেতৃত্ব’ ও ‘সুশাসন’-এর বিচারে তৃণমূলকে জবাব দেবেন— সেটাই এখন দেখার। লাল মাটির মানুষ দিদির এই ‘একলা চলো’ নীতিতে কতটা মজে, তা সময় বলবে।

Exit mobile version