Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

৩০ মিনিট সিসিটিভি ‘অফ’ করলেই পুনর্নির্বাচন! কমিশনের ‘ডিজিটাল খাঁচায়’ কি এবার ধসে পড়বে তৃণমূলের ভোট মেশিনারি?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলার ভোটে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙা বা তার মুখ ঘুরিয়ে দিয়ে ‘ছাপ্পা’ মারার যে চিরাচরিত ‘তৃণমূলী মডেল’, এবার তাতে সরাসরি তালা ঝোলালো নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও বুথে যদি ৩০ মিনিটের বেশি ওয়েবকাস্টিং বন্ধ থাকে, তবে সেই বুথে সরাসরি পুনর্নির্বাচন হবে। কমিশনের এই একটি নির্দেশেই শাসকদলের তথাকথিত ‘ভোট ম্যানেজারদের’ কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তৃণমূল জমানার ভোট মানেই যেখানে সন্ত্রাসের অভিযোগ ওঠে, সেখানে এবার কমিশন নামাচ্ছে অত্যাধুনিক ৩৬০ ডিগ্রি মুভিং রোবট ও ড্রোন। রাজ্যের ৮০ হাজার ৭১৯টি বুথের ভেতরে ও বাইরে পাহারায় থাকবে মোট ২ লক্ষ হাই-টেক সিসি ক্যামেরা। ১০০ শতাংশ বুথেই চলবে সরাসরি ওয়েবকাস্টিং। অর্থাৎ, বুথের ভেতরে বসে যে কারসাজি করার সুযোগ আগে মিলত, তা এবার সরাসরি ধরা পড়বে দিল্লির ডিজিটাল স্ক্রিনে। শাসক দলের পেশিশক্তিকে টেক্কা দিতে এই হাই-টেক নজরদারি কমিশনের এক বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’।

রাজ্যে ইতিমধ্যেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ক্যাম্প করে চলছে কড়া নাকা চেকিং। তবে এটি কেবল শুরু। কমিশন সূত্রে খবর, ধাপে ধাপে আরও ২ হাজার কোম্পানি বাহিনী নামিয়ে বাংলাকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই লক্ষ জওয়ানের উপস্থিতিতে শাসক দলের ক্যাডাররা কতটা দাপট দেখাতে পারবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। জওয়ানদের বুটের শব্দে কি এবার পিছু হটবে ছাপ্পা বাহিনী? উত্তর দেবে সময়।

প্রশাসনের শীর্ষস্তরে রদবদল ঘটিয়ে নবান্নের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন। ডিজি থেকে পুলিশ কমিশনার—পরিবর্তন করা হয়েছে খোলনলচে। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে তৈরি হওয়া ২৪ ঘণ্টার ‘ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কো-অর্ডিনেটর এবং এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনের ওপর শাসকদলের যে অলিখিত নিয়ন্ত্রণ ছিল, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তাতে পুরোপুরি দাঁড়ি টানা হয়েছে।‌ বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী আর আধুনিক প্রযুক্তির এই সাঁড়াশি চাপে কি এবার আক্ষরিক অর্থেই ধসে পড়বে তৃণমূলের সাজানো ভোট মেশিনারি? নাকি সাধারণ মানুষ এবার নির্ভয়ে ইভিএম-এ নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়ে নতুন ইতিহাস লিখবেন? বাংলার মানুষ এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়।

Exit mobile version