Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

৩৬৫ দিন কাজের দোহাই দিয়ে শুভেন্দুকে অবজ্ঞা, নাকি হারের আশঙ্কায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন দিদি?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২১-এর নন্দীগ্রাম কি তবে ২০২৬-এ ভবানীপুরে ফিরতে চলেছে? রাজনৈতিক মহলে এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি যেন রাজপথের ধুলোর মত উড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে সেই অস্বস্তিই যেন জনসমক্ষে চলে এলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছেন— এই প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, “প্লিজ, এটা নিয়ে প্রশ্ন করবেন না। অভিষেক লিস্ট পড়ে দিয়েছে। আমি দাঁড়াচ্ছি আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর নাম আসতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই “নো কমেন্টস” নীতি আসলে এক গভীর আশঙ্কার বহিঃপ্রকাশ। নন্দীগ্রামে যেভাবে নিজের প্রাক্তন সেনাপতির কাছে হার স্বীকার করতে হয়েছিল, সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ভবানীপুরে হবে না তো? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে।

মুখ্যমন্ত্রী নিজের আত্মবিশ্বাস দেখাতে গিয়ে বলেন, “আমি ৩৬৫ দিন কাজ করি। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে কালীপুজো, গুরুদোয়ারা থেকে ইদ— সব দায়িত্ব পালন করি।” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, জনগণের করের টাকায় উৎসবের দায়িত্ব পালন করাই কি একজন মুখ্যমন্ত্রীর আসল কাজ? বিরোধী শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে উন্নয়নের কাজ দিয়ে নয়, বরং উৎসবে শামিল হয়ে ভোট ব্যাঙ্ক ধরে রাখতে চাইছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁর মানুষের ওপর বিশ্বাস আছে। কিন্তু দুর্নীতিতে জর্জরিত তৃণমূল সরকারের ওপর থেকে মানুষের মোহ যে ক্রমশ ভঙ্গ হচ্ছে, তা গত কয়েকটি নির্বাচনের ফলাফল ও আন্দোলনই প্রমাণ করে দিয়েছে। বিজেপির দাবি, গতবার ভবানীপুরের মানুষ ঘরের মেয়েকে সুযোগ দিলেও, এবারের লড়াই হবে “পরিবারতন্ত্র বনাম সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা”। আর সেই লড়াইয়ে সেনাপতি হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীই সেরা বাজি।

আসলে “এটা নিয়ে প্রশ্ন না করাটাই বেটার”— মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে বিজেপি নেতৃত্ব “স্বৈরাচারী মানসিকতা” এবং “হারের ভয়” হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যদি সত্যিই মানুষের জন্য কাজ করতেন, তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম শুনেই তাঁর সাংবাদিক সম্মেলন এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়তো না। সব মিলিয়ে ভবানীপুরের পিচ এখন প্রস্তুত। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “৩৬৫ দিন উৎসবের রাজনীতি”, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর “পরিবর্তনের লড়াই”। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরের ভোটাররা কাকে বেছে নেন, সেটাই এখন দেখার। তবে শুভেন্দুর নাম আসতেই মমতার এই রক্ষণাত্মক অবস্থান বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Exit mobile version