Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

৪ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার স্ক্রুটিনিতে চরম হেনস্থার শিকার মমতা? সিউড়ির সভা থেকে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চরম হুঁশিয়ারি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচনী পারদ চড়তেই রণংদেহি মেজাজে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বীরভূমের সিউড়ির জনসভা থেকে নিজের মনোনয়ন স্ক্রুটিনি নিয়ে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর দাবি, মনোনয়ন পর্বের স্ক্রুটিনিতে তাঁকে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘জ্বালানো’ হয়েছে। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে হুঙ্কার ছেড়ে তিনি সাফ জানান, “আমি ছেড়ে দেব এদের? আপনারা ছাড়লেও আমি ছাড়ব না এদের।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই চরম ক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে ভবানীপুর কেন্দ্রে তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরবর্তী টানটান নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ। সূত্রের খবর, গত ৮ এপ্রিল আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে স্ক্রুটিনি চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন বাতিলের লক্ষ্য নিয়ে প্রধানত দু’টি বড় আপত্তি তোলা হয়েছিল: মমতার দীর্ঘদিনের প্রস্তাবক তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমত হাকিমের নথি নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিজেপি। বিয়ের আগের পদবি (ইসমত আরা) ও বর্তমান পদবি (ইসমত হাকিম) নিয়ে আইনি খুঁতখুঁতুনি দেখিয়ে দীর্ঘ সময় স্ক্রুটিনি আটকে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় হলফনামা ও প্রমাণ পেশের পর বিষয়টি মেটে। অভিযোগ তোলা হয় যে, তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে কয়েক দশক আগের কিছু ফৌজদারি মামলার তথ্য হলফনামায় গোপন করা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো অকাট্য আইনি নথি স্ক্রুটিনির সময় পেশ করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা ধরে চলা এই টানাপোড়েনকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পরিকল্পিত হেনস্থা’ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের শাসক দল নির্বাচন কমিশনের একাংশকে হাতিয়ার করে তাঁর প্রার্থীপদ খারিজ করার গভীর চক্রান্ত করেছিল।

রাজনৈতিক মহলের মতে, সিউড়ির মঞ্চ থেকে মমতার এই ‘ছেড়ে না দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে তিনি দুটি বার্তা দিতে চেয়েছেন:
ভিকটিম কার্ড ও সহানুভূতি: নিজেকে ‘হেনস্থার শিকার’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি সাধারণ ভোটারদের আবেগ ছুঁতে চাইছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যদি রাজ্যের খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে নথিপত্র নিয়ে ৪ ঘণ্টা হেনস্থা হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে! এর মাধ্যমে এনআরসি (NRC) বা নাগরিকত্ব ইস্যুকেও পরোক্ষে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

‘ছেড়ে দেব না’—এই বার্তার মাধ্যমে তিনি সরকারি আমলা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন। অর্থাৎ, ভোটের ফলাফল যাই হোক, এই চার ঘণ্টার প্রতিটি মুহূর্তের হিসেব তিনি বুঝে নেবেন, এটাই ছিল তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ।

অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগকে স্রেফ ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, স্ক্রুটিনি একটি আইনি প্রক্রিয়া। সেখানে নিয়ম মেনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আইনকে ভয় পাচ্ছেন বলেই জনসভায় দাঁড়িয়ে এহেন উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন।

সব মিলিয়ে, সিউড়ির মাটি থেকে মমতার এই ‘বদলা’ নেওয়ার সুর বঙ্গ রাজনীতির লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিল। এখন দেখার, ৪ ঘণ্টার সেই ‘জ্বালা’র জবাব মমতা ব্যালট বক্সে দিতে পারেন নাকি প্রশাসনিকস্তরে অন্য কোনো বড় পদক্ষেপ নেন।

Exit mobile version