প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণের দিনে বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ভবানীপুর। আর এই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র থেকেই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বসলেন বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, ভবানীপুরের রায় এবার তাঁর পক্ষেই যাচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন ভোটের শতাংশের ওপর ভিত্তি করে নিজের জয়ের একটি গাণিতিক সমীকরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যদি ভবানীপুরে ৮০ শতাংশ ভোট পড়ে, তবে আমি নিশ্চিতভাবে জিতব। আর যদি এই হার ৯০ শতাংশে পৌঁছায়, তবে অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক ব্যবধানে (Comfortable Margin) জয় আসবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, বেশি ভোট পড়া মানেই শাসক বিরোধী হাওয়া—শুভেন্দু এই তত্ত্বে ভর করেই তৃণমূল নেত্রীর গড়ে বড় ব্যবধানে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
নিজের জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু এদিন আরও একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড বাদে বাকি সমস্ত ওয়ার্ডেই তিনি লিড পাবেন। কিন্তু কেন ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে পিছিয়ে থাকার আশঙ্কা করছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরাসরি তোপ দাগেন শাসকদলের দিকে। শুভেন্দুর অভিযোগ, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছিল, কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে ওই ওয়ার্ডে গিয়ে ভোটারদের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন।
২০২১-এর নন্দীগ্রামের পর ২০২৬-এর ভবানীপুর—বাংলার রাজনীতির দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনা চরমে। একদিকে ঘরের মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন শুভেন্দু, অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ ঘাসফুল শিবির।
এখন প্রশ্ন হলো, শুভেন্দু অধিকারীর এই দাবি কি কেবলই রাজনৈতিক রণকৌশল, নাকি ভবানীপুরের ভোটাররা সত্যিই কোনো নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটিয়েছেন? আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিনেই পরিষ্কার হবে ভবানীপুরের সিংহাসন কার দখলে থাকছে।
