Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মঞ্চেই চোখে জল! অভয়ার স্মরণে আরজি করের দুই বছর পূর্তিতে আবেগবিহ্বল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দিলেন কড়া অ্যাকশন প্ল্যান!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে গতকাল পানিহাটির মাটিতে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন আবেগঘন মুহূর্ত। আরজি কর কাণ্ডের দুই বছর পূর্তিতে আয়োজিত বিশেষ ‘অভয়া’ স্মরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রকাশ্য মঞ্চেই চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা (যিনি বর্তমানে পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক) রত্না দেবনাথের আবেগপূর্ণ বক্তব্য এবং রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের মোমবাতি ও মৌনব্রত পালনের দৃশ্য দেখে মুখ্যমন্ত্রী চরম আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মঞ্চে বসেই তাঁকে রুমাল দিয়ে চোখের জল মুছতে দেখা যায়, যা দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখেও জল চলে আসে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রনায়কের এই মানবিক রূপ প্রমাণ করে যে, ‘অভয়া’ কাণ্ড বর্তমান বিজেপি সরকারের কাছে কোনো নির্বাচনী বা রাজনৈতিক প্রচারের ইস্যু নয়, বরং এটি ন্যায়বিচারের এক সুদৃঢ় সংকল্প।

বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহল এবং রাজনৈতিক সমালোচকদের পর্যবেক্ষণ, গতকালকের পানিহাটির মঞ্চ ছিল মূলত কান্নার সঙ্গে এক প্রবল প্রতিবাদের সংমিশ্রণ। মঞ্চে আবেগ সামলে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ ভাষায় তৃণমূলের বিগত অত্যাচারী শাসনকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “কী ভয়ঙ্কর অত্যাচারী শাসকের হাতে ছিল বাংলা! আমরা কিচ্ছু ভুলিনি, এর শেষ আমাদের দেখতেই হবে।” সমালোচকদের মতে, বিগত তৃণমূল সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে এই নৃশংস ঘটনার পর আন্দোলন স্তিমিত করতে এবং মানুষের ক্ষোভ ঢাকতে ব্যস্ত ছিলেন, সেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মানুষের এই ক্ষোভ ও কান্নাকে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার মূল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যায়, এই সরকার তোষণমুক্ত বাংলা গড়ার পাশাপাশি অপরাধের উৎস উপড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর।

কান্না কাটিয়েই অপরাধীদের ডেরায় সরাসরি আঘাত হেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সন্তানহারা মা রত্না দেবনাথের চিঠির প্রেক্ষিতে কালকের মঞ্চ থেকেই তিনি ‘স্পেশাল কমিশন অ্যাক্ট, ১৯৫২’-এর অধীনে এক যুগান্তকারী পুনর্তদন্তের নির্দেশ জারি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত তীব্র ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, ২০২৪ সালের সেই ভয়াল রাতে পরিবারের সই ছাড়া এবং কোনো রকম খরচ না দিয়ে কীভাবে তড়িঘড়ি অভয়ার দেহ সৎকার করে দেওয়া হলো?সেই রাতে শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের নেপথ্যে কী ভূমিকা ছিল, তার জন্য ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে (CP) সরাসরি তদন্তভার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই তদন্তের মূল লক্ষ্য তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা নির্মল ঘোষ, চিকিৎসক সন্দীপ ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখার্জি (তৎকালীন বারাকপুরের সিপি)।ৎ

হালিশহরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে জুতো ও কাদা ছোড়ার ঘটনা (জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ) নিয়ে কাল মঞ্চ থেকে সুতীক্ষ্ণ আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এত চুরি করলে চোর তো শুনতেই হবে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত ছিল পানিহাটিতে এসে অভয়ার মায়ের পা ধরে ক্ষমাপ্রার্থনা করা, তা না করে উনি পুলিশ ছাড়া ঘুরতে গিয়ে গণরোষের মুখে পড়েছেন।” সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গতকাল পানিহাটিতে মুখ্যমন্ত্রীর চোখের জল কোনো লোকদেখানো নাটক ছিল না। এটি ছিল বিগত সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক জেনুইন রাষ্ট্রনায়কের ন্যায়বিচারের শপথ, যা তৃণমূল শিবিরের পায়ের তলার মাটি আরও একবার সম্পূর্ণ আলগা করে দিয়েছে।

Exit mobile version