Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বিমানবন্দরে ‘চোর’ স্লোগানের অভ্যর্থনা! আদালতের খাঁড়া মাথায় নিয়ে দমদমে নীরব ভাইপো!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দিনবদলের বাংলায় আজ এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখল তিলোত্তমা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতার দাপট যে কত দ্রুত ফিকে হতে পারে, আজ দমদম বিমানবন্দর তার জীবন্ত সাক্ষী হয়ে রইল। কী দেখল বাংলা?যাঁদের একচ্ছত্র দাপটে একসময় কাঁপত গোটা রাজ্য, আজ তিনি যখন দিল্লির বিমান থেকে নামলেন, তখন চারপাশ কোনো ‘স্বাগত’ বার্তায় ভরল না। ধেয়ে এল এক তীব্র, ঝাঁঝালো শব্দ—”চোর… চোর… চোর!” হ্যাঁ, খাস কলকাতার বুকেই একদল বিক্ষোভকারী তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বুঝিয়ে দিল জনতার ক্ষোভের পারদ ঠিক কোথায় চড়েছে!

একসময়ের মহাশক্তিশালী নেতা আজ সাংবাদিকদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের সামনে একদম নীরব, যেন মুখে কুলুপ! গাড়ির কাচ সম্পূর্ণ তোলা, বাইরে কোনো প্রতিক্রিয়া না দিয়েই সোজা রওনা দিলেন গন্তব্যে। কেন এই মৌনব্রত? কেন এই লুকোচুরি? একদা যাঁদের ইশারায় বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত, আজ তাঁরাই জনতার সোজাসুজি প্রশ্নের সামনে এতটা কোণঠাসা?

পলায়ন বা এড়িয়ে যাওয়ার রাস্তা কিন্তু আজ আদালতই বন্ধ করে দিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন—আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই ভবানী ভবনে সিআইডি (CID) দপ্তরে হাজিরা দিতেই হবে। বিধানসভায় সই জালিকান্ডের মতো গুরুতর অভিযোগে জেরার মুখোমুখি হওয়া থেকে বাঁচতে দিল্লি ছুটেও কোনো লাভ হলো না। ২১ দিনের আইনি রক্ষাকবচ হয়ত মিলেছে, কিন্তু তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া থেকে রেহাই মেলেনি।

আজকের এই দৃশ্য প্রমাণ করে দেয়, রাজনৈতিক ছাতা সরে গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কীভাবে রাজপথ থেকে বিমানবন্দর গ্রাস করতে পারে। তৃণমূলের প্রভাবশালী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এর আগে বিমানবন্দরে এমনই চরম হেনস্থার মুখে পড়েছিলেন। আজ সেই একই স্ক্রিপ্টের পুনরাবৃত্তি ঘটল স্বয়ং সেনাপতির ক্ষেত্রেও। আইন আইনের পথেই চলবে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেউই দোষী নন, সেটা আদালত ঠিক করবে। কিন্তু আজ বিমানবন্দরে যে জনবিস্ফোরণ ঘটল, তা আইনের ধারা মেনে হয়নি, তা হয়েছে জনতার নিজস্ব আদালতে। এই ঝাঁঝালো স্লোগানের আওয়াজ কি এখন ভবানী ভবনের এসির হাওয়াতেও কাঁপন ধরাচ্ছে না? উত্তরটা সময়ের কাছেই তোলা থাক।

Exit mobile version