Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের মাঠে গোহারান হেরে কুৎসার আশ্রয়! রেজিনগরে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে সস্তার ড্রামাবাজি করতে গিয়ে সরাসরি এফআইআর-এর জালে খোদ অভিষেক!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উপনির্বাচনের ময়দানে ধুলোবালি খেয়ে এবার রাজনৈতিক হতাশা ঢাকতে দেশের সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপরেই সরাসরি কালি ছেটানোর এক কুৎসিত অপচেষ্টা চালালেন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর সেই অলীক প্রচারের বেলুন খুব বেশি ক্ষণ টিকল না। উপনির্বাচনের ভোট গণনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অপরাধে এবার কড়া আইনি জালে জড়ালেন খোদ তৃণমূল সাংসদ। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে একটি সম্পূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কালিমালিপ্ত করার অভিযোগে পুলিশ প্রশাসন এবার এই নেতার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

পুলিশি এবং প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) মুর্শিদাবাদের রেজিনগর উপনির্বাচনের ভোট গণনা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চরম উস্কানি ছড়ানোর পথ বাছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ফেসবুক হ্যান্ডেলে একটি সংবাদমাধ্যমের ভুল খবরের স্ক্রিনশট শেয়ার করে দাবি করে বসেন—রেজিনগরের ১০৯ নম্বর বুথে মোট ভোটার যেখানে ৭৭২ জন, সেখানে নাকি বিজেপি একাই ৯০৯টি ভোট পেয়ে গিয়েছে! উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনী পাটিগণিতের সঙ্গে তুলনা টেনে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সস্তা চাল দেন তিনি। তবে অভিষেকের এই ভুয়ো ও মনগড়া পোস্টের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) সরকারি তথ্য পেশ করে তাঁর এই মিথ্যাচারের মুখোশ সম্পূর্ণ খুলে দেয়। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ১০৯ নম্বর বুথের অফিশিয়াল নথিতে মোট ভোটার সংখ্যা আসলে ১,১০৯। তার মধ্যে ওই বুথে মোট ভোট পড়েছে ৯৭২টি। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি নিজেদের টাইপিংয়ের ভুলের জন্য লাইভে এসে প্রকাশ্যে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং ইভিএম (EVM) কারচুপির ভুয়ো জুজু তৈরি করতে সেই অসত্য পোস্ট নিজের প্রোফাইল থেকে ডিলিট করেননি। দায়িত্ব জ্ঞানহীনভাবে তথ্য যাচাই না করে এই ধরণের জঘন্য অপপ্রচার ছড়ানোর কারণেই ক্ষুব্ধ কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশকে আইনি এফআইআর রুজু করার নির্দেশ দেয়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধৃতরাষ্ট্র মার্কা আচরণ এবং মিথ্যাচারের পর রাজ্যজুড়ে সচেতন নাগরিক সমাজ এবং বিরোধী মহলে তীব্র ধিক্কারের ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশের স্পষ্ট দাবি—পশ্চিমবঙ্গে যখনই এরা ভোটে হারে, তখনই ইভিএম এবং নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করে। রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তার মতে, দেশের আইন ও সাংবিধানিক সংস্থাকে অপমান করা এই সমস্ত নেতাদের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের করের টাকায় পরিচালিত নির্বাচন ব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করে যারা সস্তা ভিউ ও রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়, তাদের জায়গা যে এবার রাজপথ নয়, বরং শ্রীঘর হতে চলেছে, তা নির্বাচন কমিশনের এই বজ্রকঠিন পদক্ষেপ থেকেই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।

রেজিনগর থানা সূত্রে খবর, লোকপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) নির্দিষ্ট কড়া ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কোনো রাজনৈতিক পদের আড়ালে লুকিয়ে থেকে যে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ও ভোটের পবিত্রতা নষ্ট করা যাবে না, তা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিজেপি সরকারের কড়া পুলিশি তৎপরতা থেকেই প্রমাণিত।

Exit mobile version