Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ব্রেকিং: “আমি কি সুমিতকে ঘরে লুকিয়ে রেখেছি?”—পুলিশি হানায় বেনজির ক্ষুব্ধ অভিষেক! ফেরার পিএ-র নাম শুনলেই কালীঘাটে এত কাঁপুনি কেন? প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আইনের দীর্ঘ হাত যখন খোদ কালীঘাটের ক্ষমতার অলিন্দে গিয়ে পৌঁছায়, তখন রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াতে বাধ্য! আর্থিক তছরুপের মামলায় অভিযুক্ত, দীর্ঘদিন ধরে ফেরার আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে শালবনি থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যখন মাঝরাতে সোজা হাজির হলো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুয়ারে, তখন তৈরি হলো নজিরবিহীন উত্তেজনা। কয়েক ঘণ্টার টানটান নাটকের পর ঘরের দরজার লক ভেঙে তদন্তকারীরা ভেতরে ঢুকলেন বলে অভিযোগ। আর তাতেই কার্যত বেনজির ক্ষোভ উগরে দিলেন একদা ‘নবান্নের রিমোট কন্ট্রোল’ বলে পরিচিত এই যুবনেতা! অভিযান শেষ হতেই ক্যামেরার সামনে এসে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর এই ক্ষোভ এবং অজুহাতকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধী শিবির।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ, “কোনও বৈধ ওয়ারেন্ট ছাড়াই মধ্যরাতে পুলিশ গেটের তালা ভেঙে আমার বাড়িতে ঢুকে পড়েছে! আমার ব্যক্তিগত ঘরে ঢুকে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালানো হয়েছে।” (পাল্টা প্রশ্ন উঠছে, তদন্তকারীরা যদি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ করে থাকেন, তবে এত আপত্তি কেন?)। নিজের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে এই তল্লাশি নিয়ে কার্যত দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করে অভিষেক বলেন, “ওরা কি ভাবছে সুমিতকে আমি আমার নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছি?”

যখনই কোনও বড় মামলার তদন্তে টান পড়ে, তখনই অবধারিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। অভিষেকও তার ব্যতিক্রম নন, পুরো ঘটনাকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” ও “হেনস্থা” বলে দেগে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালালেন তিনি। ভাতিজা আইনি বিপাকে পড়েছেন খবর পেয়েই সাতসকালে কালীঘাটের বাড়িতে ছুটে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু আইনের এই মারকাটারি বোলিংয়ের সামনে পিসি-ভাইপোর যাবতীয় রাজনৈতিক রণকৌশল যে আজ কার্যত ব্যাকফুটে, তা রাজনৈতিক মহলের একাংশ খুব ভালোই বুঝছে।

ক্ষমতার দম্ভে এতদিন যাঁরা নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে ভাবতেন, আজ কেন্দ্রীয় বাহিনী আর শালবনি পুলিশের এক ধাক্কাতেই তাঁদের সেই দাপট ধাক্কা খেল বলে দাবি করছে বিরোধী শিবির। তদন্তকারী সংস্থার এই সক্রিয়তা বুঝিয়ে দিল, ফেরার অপরাধীদের ধরতে আইন কারও বাড়ির ড্রয়িংরুমের দরজা চেনে না। এখন দেখার, ‘হাতে লণ্ঠন’ নিয়ে সুমিতের খোঁজে এই তল্লাশি আগামী দিনে আর কোন কোন রাঘববোয়ালের নাম সামনে নিয়ে আসে।

Exit mobile version