Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

হাইকোর্টে ৩টি FIR নিয়ে নজিরবিহীন মোড়! ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিষেককে নিয়ে কোন বড় নির্দেশ দিলেন বিচারপতি?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ (Sebashray) স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলায় বড়সড় স্বস্তি মিলল কলকাতা হাইকোর্ট থেকে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো রকম কঠোর বা দমনমূলক আইনি পদক্ষেপ (No Coercive Action) গ্রহণ করতে পারবে না পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থা। বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরের ব্যানারে বেআইনিভাবে রোগ নির্ণয়কারী চিকিৎসাসামগ্রী বা ডায়াগনস্টিক ইকুইপমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মোট তিনটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি বিষ্ণুপুর থানায় এবং একটি রবীন্দ্রনগর থানায়। মামলার শুনানির সময় কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারের আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে এবং প্রায় প্রতিটি মামলাতেই আদালত ইতিমধ্যে প্রোটেকশন দিয়েছে। আর কী বাকি থাকে?” মে মাস থেকে দায়ের হওয়া ১৬টি মামলার প্রসঙ্গ তুলে বিচারপতি এই তিনটি এফআইআর-এর ক্ষেত্রেও অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের নির্দেশ বহাল রাখেন।

শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (AAG) রাজদীপ মজুমদার এবং অভিযোগকারীদের পক্ষের প্রবীণ আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চ্যাটার্জী এই রক্ষাকবচের তীব্র বিরোধিতা করেন। এএজি দাবি করেন, কেস ডায়েরি (Case Diary) বা নথিপত্র খতিয়ে না দেখে এভাবে আগাম ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ দেওয়া উচিত নয়। রাজ্যের আরও দাবি ছিল যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ার কারণেই অভিযোগকারীরা বিগত জমানায় মুখ খুলতে পারেননি।

হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারি বা কড়া পদক্ষেপ থেকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই নির্দেশিকা পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। অর্থাৎ, তদন্তকারী সংস্থা আইন মেনে মামলার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। সম্প্রতি এই মামলার পরিপেক্ষিতে বিষ্ণুপুর থানায় ৩ জন চিকিৎসককে ডেকে দফায় দফায় জেরাও করেছে পুলিশ। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। সেদিন তদন্তকারী সংস্থাকে এই মামলাগুলির অগ্রগতির খতিয়ান আদালতের সামনে পেশ করতে হবে।

Exit mobile version