Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ: সই জালিয়াতি কাণ্ডে ভবানী ভবনে অভিষেক-কুণাল মুখোমুখি জেরা! বয়ানে মিলল একাধিক অসঙ্গতি!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভায় বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ সিআইডি-র। রবিবাসরীয় দুপুরে ভবানী ভবনে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে ম্যারাথন জেরা করলেন তদন্তকারীরা। সিআইডি সূত্রে খবর, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর রেজোলিউশন বুক এবং মূল নথির অবস্থান নিয়ে দুই হেভিওয়েট নেতার বয়ানে একাধিক বিষয়ে স্পষ্ট ভিন্নমত ও অসঙ্গতি মিলেছে।

রবিবার সিআইডি সদর দফতর ভবানী ভবনে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ। সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা এবং কুণাল ঘোষকে প্রায় চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে দু’জনকে আলাদা ঘরে বসিয়ে বয়ান রেকর্ড করেন আধিকারিকরা। পরবর্তীতে দু’জনের বয়ান মিলিয়ে দেখতে তাঁদের কনফারেন্স রুমে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়। ভবানী ভবন থেকে বেরোনোর সময় বিধায়ক কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “অভিষেকের মুখোমুখি বসিয়ে আমাকে জেরা করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে যা যা জানার প্রয়োজন ছিল, আমি সব জানিয়েছি।”

সিআইডি সূত্রে খবর, মূল তদন্তের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দুই নেতার বক্তব্যে অমিল পাওয়া গেছে। দলীয় বিধায়কদের সভার সিদ্ধান্ত পুস্তিকা বা রেজোলিউশন বুকটি কার জিম্মায় ছিল, তা নিয়ে দু’জন দুরকম তথ্য দিয়েছেন। গত ১৯ মে-র বৈঠকের আসল স্বাক্ষর সম্বলিত নথিটি বর্তমানে ঠিক কোথায় রাখা আছে, তা নিয়ে দু’জনের বয়ানে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিধায়কদের সই কার নির্দেশে এবং ঠিক কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়াগত প্রশ্নেও দু’জনের দেওয়া তথ্যে মিল মেলেনি।

গত মে মাসে তৃণমূল বিধায়কদের কালীঘাটের বৈঠকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম চূড়ান্ত করা হয়। এরপর ৭০ জন বিধায়কের সই সম্বলিত একটি প্রস্তাবপত্র বিধানসভা সচিবালয়ে জমা পড়ে। এর পরেই তৈরি হয় চরম বিতর্ক। বেশ কয়েকজন বিধায়ক লিখিত অভিযোগ করেন যে, গত ৬ মে-র একটি বৈঠকের হাজিরার কাগজ ব্যবহার করে তাঁদের অজান্তেই ১৯ মে-র প্রস্তাবপত্রে সই জালিয়াতি করা হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের হয় এবং মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রবিবারের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের বয়ান খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে দুই নেতাকে আবারও তলব করা হতে পারে।

দাবিদাওয়া (Disclaimer): এই প্রতিবেদনের সমস্ত তথ্য সিআইডি এবং তদন্তকারী সূত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা। কোনো পক্ষের বক্তব্য বা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি আমাদের পোর্টাল।

Exit mobile version