Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

১০ জনপথে রাহুলের দরবারে অভিষেক: জালিয়াতি-বিদ্রোহের মেঘ ঢাকতে কি দিল্লির ‘হাত’ ধরার মরিয়া চেষ্টা?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একদিকে দিল্লির রাজপথে বিরোধী ঐক্যের নামে গলাগলি, আর অন্যদিকে খোদ কলকাতার পার্টি অফিসে জালিয়াতির তদন্তে সিআইডি-র হানা! রাজনীতির এই দ্বিচারিতা ও বৈপরীত্য বোধহয় শুধু জোড়াফুল শিবিরের পক্ষেই সম্ভব। আজই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন ১০ জনপথে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর দরবারে হাজির হলেন। তার আগের দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র প্রশ্ন— রাজ্যপাট হারানোর পর দিল্লির এই বৈঠক কি শুধুই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের স্বার্থে, নাকি ঘরের দরজায় কড়া নাড়া সিআইডি-র খাঁড়া এবং দলের অন্দরের নজিরবিহীন বিদ্রোহ থেকে নজর ঘোরানোর শেষ মরিয়া চেষ্টা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশই মনে করছেন, এই তথাকথিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দৌড়ঝাঁপ আসলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কেলেঙ্কারি ঢাকবার একটা মরিয়া রাজনৈতিক ঢাল মাত্র। বিরোধীদের দাবি এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর পেছনে রয়েছে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নবান্ন থেকে বিদায় নেওয়ার পর তৃণমূলের অন্দরে এখন যে বেনজির সংকট তৈরি হয়েছে, তা দলটির গত ২৮ বছরের ইতিহাসে দেখা যায়নি। দলের অন্তত ৫৮ জন বিধায়ক যেভাবে নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী মনোভাব দেখিয়েছেন, তাতেই স্পষ্ট যে এই প্রাক্তন শাসকদলের অন্দরে আর কোনো শৃঙ্খলা অবশিষ্ট নেই। রাজনৈতিক পণ্ডিতদের ব্যাখ্যা, ক্ষমতা হারানোর পর দলের ভেতরেই এখন চূড়ান্ত অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, যা ঢাকতেই দিল্লির দরবারে এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকগুলির আয়োজন করে সংবাদ শিরোনামে থাকার চেষ্টা চলছে। কলকাতার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি লাগোয়া পার্টি অফিস এবং ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে যেভাবে একযোগে সিআইডি তল্লাশি চালাল, তাকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করছেন বিরোধীরা। পরিষদীয় দলনেতা বা বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের রেজোলিউশন খাতায় খোদ বিধায়কদের স্বাক্ষর জালের যে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে, তাকে “গণতন্ত্রের লজ্জা” বলে আখ্যা দিয়েছেন বিরোধী শিবিরের নেতারা। বিরোধী নেতাদের স্পষ্ট বক্তব্য:যে দল নিজেদের বিধায়কদের সই জালিয়াতি করে রেজোলিউশন খাতা তৈরি করার অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি, তারা কীভাবে দেশের গণতন্ত্র বাঁচানোর কথা বলে?আসল রেজোলিউশন বুক এবং হাজিরা খাতা উদ্ধার করতে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় গোয়েন্দাদের ঢুকতে হচ্ছে— এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে যে অভিযোগের শিকড় কত গভীরে!

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কাকতালীয়ভাবে, যেদিন সিআইডি এই দুই অফিসে সাঁড়াশি অভিযান চালাল, সেদিনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরার জন্য তৃতীয়বার তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজিরা না দিয়ে সোজা দিল্লি উড়ে গেলেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের আমলে আইনি তদন্তের চাপ এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের অস্বস্তি এড়াতে তৃণমূল নেতৃত্ব এখন জাতীয় স্তরের নেতাদের পেছনে রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। যখনই কোনো দুর্নীতির তদন্ত গতি পায়, তখনই কেন ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র তাস খেলা হয়, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিরোধী শিবিরের আক্রমণ অত্যন্ত চাঁছাছোলা— বাংলা থেকে প্রত্যাখ্যান পাওয়ার পর দিল্লির ১০ জনপথে গিয়ে হাত মেলালেই কি কলকাতার জালিয়াতির দাগ এবং ঘরের বিদ্রোহ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তৃণমূল এখন এমন এক কানাগলিতে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে একদিকে ঘরের বিধায়কদের তীব্র অসন্তোষ ও বিদ্রোহ, আর অন্যদিকে দোরগোড়ায় খোদ তদন্তকারী অফিসারদের কড়া নাড়া। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া এই অভ্যন্তরীণ দলীয় ব্যবস্থা আর কতদিন দিল্লির নাটকের ওপর ভর করে টিকে থাকবে, এখন সেটাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে লাখ টাকার প্রশ্ন।

Exit mobile version