প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২০ সালে বিজেপির তৎকালীন অন্যতম শীর্ষ নেতা (বর্তমান বিজেপির রাজ্য সভাপতি) শমীক ভট্টাচার্যের কনভয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় এবার সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই হামলার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ মোট ৭৯ জনের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের বিশিষ্ট বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ওরফে ববি) থানায় গিয়ে এই হাইপ্রোফাইল অভিযোগটি জমা দেন।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির দায়ের করা এই লিখিত অভিযোগে কেবল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামই নেই, বরং তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা একাধিক ব্যক্তির নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট (PA) সুমিত রায়, স্থানীয় তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান এবং আরও ৭৭ জন সক্রিয় কর্মী ও সমর্থকসব মিলিয়ে মোট ৭৯ জনের বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর। ওই দিন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য ডায়মন্ড হারবারে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, জাতীয় সড়কের ওপর স্রোতেরপোল মোড়ের (মোহনপুর) কাছে ওত পেতে থাকা একদল দুষ্কৃতী আচমকা শমীক ভট্টাচার্যের কনভয়ের ওপর লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলার তীব্রতায় শমীক ভট্টাচার্যের গাড়ি সম্পূর্ণ ভাঙচুর করা হয় এবং বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হন। বিজেপি নেতা ববির দাবি, এই পুরো হামলার নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত ছিল এবং হামলাকারীরা প্রত্যেকেই স্থানীয় প্রভাবশালী নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ লোক।
অভিযোগকারী বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি জানান, ২০২০ সালের ওই নৃশংস হামলার ঘটনার পর তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন রাজনৈতিক চাপে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয়নি। সেই কারণেই দোষীদের শাস্তির দাবিতে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে পুনরায় এই নির্দিষ্ট অভিযোগটি দায়ের করা হলো। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, থানায় জমা পড়া লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। এই মামলার জেরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
