প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক (PA) সুমিত রায় সিআইডি-র (CID) হাতে গ্রেফতার হতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আইনি সুরক্ষাকবচ সরতেই সুমিতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। আর এই ঘটনার পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা ও তাঁর লাইফস্টাইল নিয়ে একের পর এক নজিরবিহীন বিস্ফোরক মন্তব্য করে চলেছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। এবার মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্যের কবিতা আউড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির নিশানা করলেন মদন মিত্র।
সুমিত রায়ের গ্রেফতারির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মদন মিত্র। তিনি কবিতা আউড়ে বলেন, “আমার একটা কবিতা মনে পড়ে গেল। মেঘনাদপুত্র মোর, স্বামী লঙ্কেশ্বর… সুমিত চলে যাওয়ার পর অভিষেক কবে আসবে, আমি জানি না। এটা কোর্টের ব্যাপার। তবে মেঘনাদের মতো তাঁকে আমাদের বুঝে নিতে হবে।” রাজনীতির অলিন্দে মদন মিত্রের এই মন্তব্য অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ এবং শাসক শিবিরের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে স্পষ্ট করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
চোখের চিকিৎসার কারণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তাঁর এই বিদেশ সফরের টাইমিং নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মদন। তিনি দাবি করেন, সুমিত রায় গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগেই অভিষেক দেশ ছেড়েছেন। একে সরাসরি “সেটিং” বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। মদন মিত্রের বক্তব্য, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন ছিলেন, সুমিত রায় কিন্তু অ্যারেস্ট হননি। এর মধ্যে তো আর বেটিং নেই, এর মধ্যে সেটিং রয়েছে। তাঁর যাওয়া আর সুমিতের অ্যারেস্ট হওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে একটা ২ প্লাস ২ চার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, নিউ জার্সির লং আইল্যান্ডের মতো পৃথিবীর অন্যতম ব্যয়বহুল এলাকায় একটি আস্ত বিলাসবহুল ‘হাভেলি’ বা প্রাসাদ ভাড়া নিয়ে থাকছেন অভিষেক। বাংলার সাধারণ মানুষ যখন বন্যায় ভাসছে, তখন এই রাজকীয় জীবনযাত্রার খরচের উৎস কী, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য প্রশাসনের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মদন মিত্র।
এখানেই থামেননি কামারহাটির বিধায়ক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসকে সরাসরি ‘ভুলভুলাইয়া’ বলে তোপ দেগেছেন তিনি। মদন মিত্রের মারাত্মক অভিযোগ, “ক্যামাক স্ট্রিট আসলে একটি ভুলভুলাইয়া। ওখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় বসতেন তা কেউ জানত না, সবাই আসলে সুমিতের সাথেই দেখা করত।” এই গ্রেফতারি এবং দুর্নীতিতে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের পেছনে আরও বড় কোনো চক্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে মেদিনীপুর আদালতেও সিআইডি চাঞ্চল্যকর দাবি পেশ করেছে।
