Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

১৫ বছরের ‘দাদাগিরি’ শেষ হতেই জনরোষ? সোনারপুরের তাণ্ডব ঢাকতে এবার স্পিকারের দরজায় তৃণমূল!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতা চলে গেলেও মেজাজ কি আদৌ কমেছে? সোনারপুরে ‘জনরোষের’ মুখে পড়ে চশমা ভাঙল সদ্য প্রাক্তন শাসকদলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবার দিল্লির দরজায় তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে সদ্য গঠিত বিজেপি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, অন্যদিকে গত দেড় দশক ধরে বাংলায় চলা নিজেদের কুশাসনের ক্ষোভকে আড়াল করতে এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হলেন জোড়াফুলের সাংসদেরা। রবিবারই স্পিকারের কাছে দিল্লির দরবারে আনুষ্ঠানিক নালিশ ঠুকলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, বাংলায় ১৫ বছরের রাজত্ব হারানোর পর প্রথমবার মাটিতে নামতেই কেন এমন গণবিক্ষোভের মুখে পড়তে হলো অভিষেককে? সুরক্ষায় গলদের অজুহাত দিয়ে তৃণমূল আসলে কোন রাজনৈতিক চিত্রনাট্য ঢাকার চেষ্টা করছে?

সোনারপুরের ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। রবিবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়ে তৃণমূল দাবি করেছে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তথা সাংসদের ওপর এই হামলা আসলে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। অবিলম্বে এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ক্ষমতা হারিয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার যে কঙ্কালসার চেহারাটা সামনে এসেছে, তা ধামাচাপা দিতেই তড়িঘড়ি স্পিকারের এজলাসে গিয়ে সহানুভূতির হাওয়া তোলার শেষ চেষ্টা করছে জোড়াফুল শিবির। যে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের জমানায় বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, মিথ্যা মামলা আর ভোট-পরবর্তী হিংসার রেকর্ড তৈরি করেছিল, আজ তারা সুরক্ষার অভাব নিয়ে সরব! ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতার কর্মসূচিতে কেন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে এর পেছনে পুলিশের গাফিলতি নাকি তৃণমূলের অন্দরের আদি-নব্য কোন্দলের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে, তা নিয়ে খোদ রাজনৈতিক মহলেই ফিসফাস শুরু হয়েছে।

বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট দাবি, এই ঘটনার সাথে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকারের বা দলের দূর-দূরান্তের কোনও সম্পর্ক নেই। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে যে সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি সংস্কৃতি এবং দুর্নীতি চলেছে, সোনারপুরের ঘটনা তারই স্বাভাবিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ। বাংলার মানুষ যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর শান্তিপূর্নভাবে নিজেদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগরে দেয়, তখন তাকে ‘চক্রান্ত’ বা ‘খুনের চেষ্টা’ বলে দাগিয়ে দেওয়াটা তৃণমূলের পুরনো রাজনৈতিক স্টাইল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকারের কাছে নালিশ ঠুকে তৃণমূল আসলে এটা প্রমাণ করল যে তারা এখনও বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে অভ্যস্ত হতে পারেনি। ক্ষমতা হারানোর পর পায়ের তলার মাটি কতটা সরেছে, সোনারপুরের রাস্তায় ডিম-জুতো বৃষ্টিই তার প্রমাণ। এখন দেখার, তৃণমূলের এই ‘দিল্লি চলো’র জবাবে স্পিকারের দফতর থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Exit mobile version