প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সময় বড় বলবান! যে ‘ডিজে’ বাজিয়ে বিরোধীদের ঠান্ডা করার হুঙ্কার দেওয়া হয়েছিল, আজ কি সেই ডিজের তালেই হাজিরা দিতে হচ্ছে সিআইডির দোরগোড়ায়? পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সই জালিয়াতি মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই, আগামী মঙ্গলবার ফের ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছে একদা ক্ষমতার অলিন্দে থাকা দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবারের কারণ? ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে দেওয়া সেই বহুল চর্চিত ‘উস্কানিমূলক’ এবং ‘হুমকি’ বয়ানের তদন্ত! রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—জনসভায় দাঁড়িয়ে “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলা না নেওয়ার নীতি ভুল ছিল” বলা আর “৪ তারিখের পর ডিজে বাজানো হবে” বলে হুঙ্কার দেওয়ার সেই চেনা দম্ভ আজ আইনের আতসকাচের নিচে কেন?
বিধানসভা নির্বাচনের সময় আরামবাগের সভা থেকে দেওয়া বক্তব্যের জেরে বাগুইআটি ও সল্টলেক সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর হয়েছিল। সেই মামলারই তদন্তে এবার সক্রিয় সিআইডি। শুক্রবার বিকেলে সিআইডি অফিসাররা যখন কালীঘাটে নোটিস দিতে যান, তখন তা গ্রহণ করা নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ আইনি জটিলতা তৈরি হয়। একদা যাঁর অঙ্গুলিহেলনে পুলিশি ব্যবস্থা চলত, আজ তাঁরই দুয়ারে পুলিশি নোটিস পৌঁছানো নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। রবিবার সই জালিয়াতি মামলার জেরার মুখোমুখি হতে হবে তাকে, আর ঠিক তার ৪৮ ঘণ্টার মাথায় অর্থাৎ মঙ্গলবার ফের তলব এই বিতর্কিত মন্তব্য মামলায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় জমানার পরিবর্তন ঘটেছে। রাজ্যে এখন নতুন সরকার, নতুন ব্যবস্থা। আইনের হাত যে কত লম্বা এবং তা যে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দাপটের তোয়াক্কা করে না, সেটা বোধহয় এবার স্পষ্ট হচ্ছে। মঙ্গলবার ভবানী ভবনের দীর্ঘ করিডোরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী জবাব দেন, এখন সেটাই দেখার।
(এই বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর আইনজীবীদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে তা যোগ করা হবে।)
