Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

পিসি-ভাইপোর দম্ভ চূর্ণ! দল সামলাবেন না ইডির জেরা এড়াবেন? স্পিকারের ২ ঘণ্টার নোটিশে খেই হারালেন খোদ অভিষেক!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের তখত হাতছাড়া হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই। বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর বাংলায় এখন নবান্নে বসে সুশাসন চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অথচ ক্ষমতার সেই দম্ভ এখনও কাটেনি সাবেক দল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের। কিন্তু এবার সরাসরি দেশের সংসদেই বড়সড় ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে খেই হারিয়ে ফেললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কার্যালয় থেকে মাত্র ২ ঘণ্টার জরুরি নোটিশ পেয়ে একদিকে যখন তাঁর দল গোত্তা খাচ্ছে, ঠিক তখনই কলকাতায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলার ম্যারাথন জেরায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির দরজায় হাজিরা দিতে ব্যস্ত তিনি। রাজনীতির অন্দরে তীক্ষ্ণ প্রশ্নটা এখন আর চাপা নেই— দল সামলাবেন, নাকি ইডির জেরা সামলাবেন?

বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই প্রাক্তন শাসক শিবিরের অন্দরে যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা এখন দিল্লির দরবারে এসে ঠেকেছে। তৃণমূলের অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে তীব্র অসন্তোষ। সংসদীয় সূত্রের খবর, দলের অন্তত ২০ জন লোকসভা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দরবার করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন। এই গণ-বিদ্রোহের আঁচ পেয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১০ জুন স্পিকারকে চিঠি লিখে দাবি করেন, ‘দল অখণ্ড, এই বিদ্রোহীদের যেন কোনো আলাদা স্বীকৃতি বা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া না হয়’। কিন্তু দেশের সংসদ তো আর পাড়ার ক্লাব নয় যে চিঠিতেই কাজ হয়ে যাবে!

দিল্লির সংসদীয় সচিবালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিষেকের চিঠি পাওয়া মাত্রই স্পিকার ওম বিড়লার কার্যালয় অত্যন্ত কড়া ও পেশাদার পদক্ষেপ নেয়। ১৫ জুন দুপুর ২টো নাগাদ সরাসরি ইমেল পাঠানো হয় অভিষেককে। নির্দেশ ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার— বিকেল ৪ টের মধ্যে, অর্থাৎ মাত্র ২ ঘণ্টার নোটিশে সশরীরে দিল্লির স্পিকার কার্যালয়ে হাজির হয়ে নিজের দাবির সপক্ষে বক্তব্য জানাতে হবে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ঠিক তখনই কলকাতায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে ইডি (ED) দপ্তরে হাজির ছিলেন অভিষেক। টানা জেরার কারণে ফোন এবং ইমেল দেখার সুযোগ পাননি তিনি। ফলে, দিল্লির সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন মিস করেন তিনি। শেষমেশ স্পিকারের দরজায় দৌড়াতে হয় সাংসদ কীর্তি আজাদকে, যিনি অভিষেক কলকাতায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির জেরার মুখোমুখি থাকায় পরবর্তী কোনো তারিখে সময় চেয়ে আবেদন করেন।

প্রথমত, যে দল কদিন আগেও নিজেদের বাংলায় অপ্রতিরোধ্য ভাবত, তাদের এই চরম অসহায়তা কেন? ২০ জন সাংসদ যখন একযোগে বিদ্রোহ করার সাহস দেখান, তখন বুঝতে হবে পায়ের তলার মাটি শুধু রাজ্যেই নয়, দিল্লিতেও সরে গেছে। দ্বিতীয়ত, চিঠি লিখে বিদ্রোহীদের আটকানোর এই মরিয়া চেষ্টা কি আদতে রাজনৈতিক দেউলিয়ার লক্ষণ নয়? গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যখন দলের সাংসদরাই সেনাপতির নেতৃত্ব মানতে নারাজ, তখন স্পিকারের দেওয়া ২ ঘণ্টার নোটিশে দিল্লি না গিয়ে কলকাতায় ইডির চেয়ারে বসে থাকাটা রাজনৈতিকভাবে কতটা স্বস্তির? তৃতীয়ত, স্পিকার ওম বিড়লা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি শুধু একতরফা চিঠির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং অভিষেক— উভয় পক্ষকেই সামনাসামনি বসিয়ে শুনানি হবে।

বাংলায় নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি মামলার তদন্তে গতি এসেছে। আর এবার খোদ দিল্লিতেও সাবেক দল তৃণমূলের তাসের ঘর ভাঙতে শুরু করেছে। একদিকে ইডির সাঁড়াশি চাপ, অন্যদিকে দলের সাংসদদের প্রকাশ্য বিদ্রোহ— দুটোর মাঝে পড়ে এই শীর্ষ নেতার অবস্থা এখন ‘শাঁখের করাত’। সময় মাত্র ২ ঘণ্টা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতেই স্পষ্ট হয়ে গেল— বাংলার প্রাক্তনদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কতটা বড় সংকটের মুখে।

Exit mobile version