প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক মোড়! ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর যখন দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে হাজারো প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার প্রকাশ্য আহ্বান জানালেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তবে এই আমন্ত্রণের পেছনে তিনি এমন এক মারাত্মক শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। বুধবারই দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের হাইপ্রোফাইল বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর পাশে বসেছিলেন মমতা। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই, বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে অধীর চৌধুরী এই মারাত্মক রাজনৈতিক চালটি চাললেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী সাফ জানান, এই মুহূর্তে তৃণমূলের আলাদা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আর কোনও মানে হয় না। দলটির প্রতীক ও নাম নিয়েও বর্তমানে টানাপোড়েন চলছে। এই আবহে মমতাকে তাঁর পরামর্শ, জটিলতা না বাড়িয়ে সোজা কংগ্রেসে ফিরে আসুন। মমতাকে উদ্দেশ্য করে অধীর বলেন, “আপনার যা এমপি-এমএলএ বেঁচে আছে, লোটাকম্বল সব নিয়ে কংগ্রেসের ছাতার নিচে চলে আসুন। আপনি বাংলায় কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিন, আমরা সবাই আপনার অধীনে কাজ করতে রাজি আছি” কিন্তু এর পরেই বিস্ফোরক শর্তটি যোগ করেন তিনি—”তবে একটা কথা, শুধু আপনার ব্যাগেজটা (Baggage) নেবেন না! যাকে নিয়ে আপনার যত ঝঞ্ঝাট, সেই খোকাবাবুকে (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বাদ দিয়ে বাকি সবাইকে নিয়ে চলে আসুন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ব্যাগেজ’ ও ‘ঝঞ্ঝাট’ বলতে অধীর এখানে সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করেছেন।
দিল্লিতে এই বিষয়ে সাংবাদিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করলে তিনি সরাসরি কোনও উত্তর দেননি। তিনি জানান, এগুলো সম্পূর্ণ স্থানীয় বিষয় এবং কলকাতায় ফিরে তিনি এর জবাব দেবেন। অন্যদিকে, মমতা শিবিরের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সাংসদ সৌগত রায় এই বিষয়ে এক ইঙ্গিতপূর্ণ বয়ান দিয়েছেন। তিনি জানান, অধীর চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে কী বললেন তাতে তাঁদের কিছু যায় আসে না। তবে কংগ্রেস হাইকমান্ড (সোনিয়া বা রাহুল গান্ধী) থেকে যদি এমন কোনও আনুষ্ঠানিক বা অফিশিয়াল প্রস্তাব আসে, তবে তৃণমূল তা দলের অভ্যন্তরে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করে দেখবে।বিজেপি সরকারের অধীনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে অধীর চৌধুরীর এই মাস্টারস্ট্রোক বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।
