Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রাহুল গান্ধীর ফোনে কি ডানা ছাঁটা গেল অধীর শিবিরের? নন্দীগ্রামে দিদির সমর্থনের পর রাজ্য কংগ্রেসে চরম অস্বস্তি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতা ও দিল্লির হাইকমান্ডের নির্দেশে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু গতকালের এই ঐতিহাসিক ঘোষণার পর আজ সকাল থেকেই বঙ্গ কংগ্রেসের অন্দরে চরম ক্ষোভ, অস্বস্তি ও বিদ্রোহের আগুন জ্বলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কট্টর বিরোধী হিসেবে পরিচিত প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী যেভাবে আজ মুখ খুলেছেন, তাতে স্পষ্ট যে দিল্লির এই ‘কাঁচা জোট’ রাজ্য কংগ্রেসের নেতারা একেবারেই হজম করতে পারছেন না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের ঘোষণার পরই আজ মেজাজ হারিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নজিরবিহীন কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “উনি যাকে নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন, সেই মাঠ ছেড়ে পালিয়েছে। নিজের দল সামলাতে পারেন না আর এখন কংগ্রেসকে সমর্থন করছেন?” অধীরবাবু কংগ্রেস কর্মীদের উদ্দেশ্যে সাফ বার্তা দিয়েছেন, “তৃণমূল এখন ঝরা পাতা, ওটার দিকে তাকাবেন না। বটগাছ হলো কংগ্রেস, আপনারা সবাই হাত শক্ত করুন।” অধীরের এই তীব্র বয়ান প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনোভাবেই বন্ধু হিসেবে মেনে নিতে রাজি নয় বঙ্গ কংগ্রেসের একটা বড় অংশ।

সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই স্বীকার করেছেন যে, প্রতীক খোয়ানোর পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নিজে তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের খাতিরে দিল্লি থেকে এই জোটের স্ক্রিপ্ট লেখা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, যে তৃণমূল গত আড়াই দশক ধরে বাংলায় কংগ্রেসের ঘর ভেঙে দল বড় করেছে, আজ তাদের সমর্থন নেওয়াকে ‘আত্মঘাতী’ বলে মনে করছেন নিচুতলার কংগ্রেস কর্মীরা। অধীর শিবিরের আশঙ্কা, দিদির এই সমর্থনের ফলে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক এবং কর্মীদের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পূর্ণ প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে।

এদিকে মমতাপন্থী শিবিরের সমর্থন পাওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজ্য কংগ্রেসের একাংশের ফিসফাস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আগ বাড়িয়ে সমর্থন ঘোষণা না করতেন, তবে হয়তো মিলন প্রধানকে আজ জেলে যেতে হতো না। দিদির এই ‘হাইপ্রোফাইল সমর্থন’ই মিলনকে সরাসরি বর্তমান বিজেপি সরকারের আইনি নিশানায় এনে দাঁড় করিয়ে দিল। ফলে মিলন প্রধানের জন্য এই সমর্থন এখন আক্ষরিক অর্থেই শাঁখের করাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাহুল গান্ধীর একটি ফোনে মমতাপন্থী শিবির ও কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরে সমঝোতা হলেও, অধীর চৌধুরীর আজকের বিস্ফোরক মন্তব্য বুঝিয়ে দিল বাংলায় লড়াইটা এত সহজ নয়। একদিকে রাজ্য কংগ্রেসের মমতাবিরোধী লাইনের ক্ষোভ, অন্যদিকে নিচুতলার কর্মীদের বিভ্রান্তি—সব মিলিয়ে দিল্লির চাপিয়ে দেওয়া এই ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) মডেল শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে কংগ্রেস প্রার্থীর বৈতরণী পার করতে সাহায্য করবে, নাকি অধীর শিবিরের বিদ্রোহেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Exit mobile version