Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“এবার মস্তানরা নয়, পুলিশ নিজে ছাপ্পা মেরেছে!” ভোটের দিন বিস্ফোরক অধীর চৌধুরী!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দিন ভোটপ্রক্রিয়া এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নজিরবিহীন ও মারাত্মক অভিযোগ তুললেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ চলাকালীন বহরমপুরে একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে অধীর সরাসরি তোপ দাগেন পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এলাকায় ভোট লুট বা ভোট করানোর জন্য এবার আর কোনও বহিরাগত মস্তানদের প্রয়োজন হয়নি, খোদ পুলিশই বুথে বুথে গিয়ে ছাপ্পা ভোট মেরেছে। রেজিনগরের ভোট নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “আগে দেখতাম মস্তানরা ভোট করত। এবার পুলিশ নিজে ভোট করেছে। পুলিশ নিজে ছাপ্পা মেরেছে। টিকিট বন্টন করেছে। পুলিশের তরফে এলাকায় এলাকায় সন্ত্রাসের নানা কায়দা-কানুন তৈরি হয়েছে।”

এবারের উপনির্বাচনে কোথাও কোনও বড়সড় অশান্তি, রক্তপাত বা বোমাবাজির ঘটনা সামনে আসেনি। কিন্তু অধীর চৌধুরীর দাবি, এই শান্ত পরিবেশ আসলে একটি সুপরিকল্পিত প্রহসন। একে ‘ভায়োলেন্স ইন সাইলেন্স’ বা নিশ্চুপ সন্ত্রাস বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ব্যাখ্যা করেন, “এখানে কোনও রক্তপাত হয়নি, বোমা পড়েনি, কোনও মৃত্যু হয়নি। কিন্তু সন্ত্রাস হয়েছে নির্বিঘ্নে, অবাধে।” কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিকে টার্গেট করা হয়েছিল। সেখানে সাধারণ মুসলিম ভোটাররা যাতে ভোট দিতে না পারেন, তার জন্য পুলিশ নিজেই বুথের রাস্তায় পাঁচিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং ভোটারদের বুথের দিকে এগোতেই দেয়নি।

অধীর চৌধুরী প্রশাসনের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে জানান, গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। কিন্তু রেজিনগরের মাটিতে যেভাবে পুলিশকে দিয়ে ভোট নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, তা আগামী দিনে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য এক বড়সড় আশঙ্কার ইঙ্গিত। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই অভিনব ও নিশ্চুপ কৌশলের বিরুদ্ধে তারা যে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই জারি রাখবেন, সেই হুঁশিয়ারিও দেন বর্ষীয়ান এই নেতা।

Exit mobile version