প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার দম্ভ আর সুরের মূর্ছনা—কোনও কিছুই কি শেষরক্ষা করতে পারল না? ২০২৬-এর নির্বাচনী ইভিএমে সাধারণ মানুষের তীব্র প্রত্যাখানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আইনি গেরোয় বন্দি রাজারহাটের ‘হেভিওয়েট’ দম্পতি। গ্রেফতারির আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়েছে বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী তথা দাপুটে যুব নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর। পরিস্থিতি এমনই বেগতিক যে, আইনি রক্ষাকবচ পেতে তড়িঘড়ি তাঁদের ছুটতে হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে। রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষ, “এতদিন যাঁরা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলতেন, আজ নিজেদের পিঠ বাঁচাতে তাঁরাই আইনের পায়ে মাথা খুঁড়ছেন!”
দেবরাজ চক্রবর্তীর পরম বিশ্বস্ত এবং তাঁর যাবতীয় কাজকর্মের মূল কারিগর অমিত চক্রবর্তী পুলিশি খাঁচায় বন্দি হতেই এই দম্পতির বুক দুরুদুরু শুরু হয়েছে বলে গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে। ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট দাবি, অমিত মুখ খুললেই থলের বেড়াল বাইরে আসবে, আর সেই ভয়েই তড়িঘড়ি আদালতের দরজায় কড়া নাড়া। নির্বাচনী হলফনামায় আয়ের যে খতিয়ান দেওয়া হয়েছিল, বাগুইআটি থানার এফআইআর (২০৭/২০২৬) যেন সেই সাজানো বাগানেই কুড়ুল চালিয়েছে।
রাজারহাট-গোপালপুরের মানুষ তো আগেই ভোটবাক্সে যোগ্য জবাব দিয়ে বিদায় করেছিলেন, এবার কি তবে আইনি আদালতেও হিসাব চুকানোর পালা? মুখে বড় বড় সততার বুলি আউড়ে আসলে যে কোটি কোটি টাকার আয়-বহির্ভূত সম্পত্তির পাহাড় গড়া হয়েছিল, বিরোধীদের সেই দীর্ঘদিনের অভিযোগ এখন আমজনতার মুখে মুখে। যাঁর সুমধুর কীর্তন শুনে মানুষ মুগ্ধ হতেন, আজ তাঁরই হলফনামা নিয়ে ওঠা বিপুল দুর্নীতির অভিযোগে চোখ কপালে উঠছে সাধারণ মানুষের।
আগামী শুক্রবারই এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানি। সেদিন আদালত তাঁদের অন্তর্বর্তীকালীন কোনও স্বস্তি দেয়, নাকি খাঁচায় পুরতে তদন্তকারী সংস্থাকে সবুজ সংকেত দেয়—সেটাই দেখার। তবে এই ঘটনায় একটা বিষয় পরিষ্কার, আইনের হাত থেকে বাঁচতে ‘দিদি’ বা ‘দাদা’ কেউ যে এই মুহূর্তে পাশে দাঁড়াচ্ছেন না, তা এই দম্পতির হাইকোর্টের অলিন্দে দৌড়াদৌড়ি দেখেই স্পষ্ট।
