প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভায় সই জালিয়াতি মামলায় (Signature Forgery Case) তলব এড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এবার সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছে গেল সিআইডি (CID)-র বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। আজ সোমবার বিকেলে আকস্মিকভাবেই গোয়েন্দা আধিকারিকদের গাড়ি এসে দাঁড়ায় হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেকের বাড়ি-এর সামনে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে গোটা কালীঘাট ও হরিশ মুখার্জি রোড চত্বরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী, মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।
আজ, ৮ জুন সিআইডি-র সদর দফতর ভবানী ভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরার নির্দেশ ছিল। তবে পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে বর্তমানে দেশের রাজধানীতে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে অবস্থান করছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। সশরীরে উপস্থিত হতে না পারার জন্য সিআইডি-কে তিনি আগেই ইমেল মারফত চিঠি পাঠিয়ে সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই চিঠি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিআইডি-র বিশেষ দল তাঁর বাড়ির দুয়ারে পৌঁছে যাওয়ায় তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবের একটি চিঠিতে তৃণমূলের একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। দলেরই দুই বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা প্রথম এই জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন, যার ভিত্তিতে পরবর্তীতে বিধানসভার সচিব এফআইআর দায়ের করেন। এই ভুয়ো স্বাক্ষর মামলার তদন্তেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠিয়েছিল সিআইডি।
এর আগে গত ১ জুনও ‘অসুস্থতার’ কারণ দর্শিয়ে সিআইডি-র প্রথম তলব এড়িয়ে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবারও সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেছিলেন এবং গোটা চত্বরের ভিডিওগ্রাফি করেছিলেন। সিআইডি-র এই লাগাতার সমন ও নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালত আগামী ১০ জুন ২০২৬ তারিখে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ শুনানির মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে, আজ আবারও সিআইডি তাঁর বাড়ির দুয়ারে পৌঁছানোয় কোনো নতুন আইনি নোটিশ দেওয়া হচ্ছে নাকি তদন্তের প্রক্রিয়া আরও কড়া কোনো দিকে মোড় নিচ্ছে, সেদিকেই এখন গভীর নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।
