প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যকে ভাতা এবং ভর্তুকি দিয়ে কার্যত ধ্বংসের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার সরকার। এতদিন চোখে চোখ রেখে লড়াই করা বিজেপি নেতারা যেমন সেই অভিযোগ করতেন, ঠিক তেমনই বাম কংগ্রেস নেতাদেরও এই কথা বলতে শোনা যেত। কিন্তু হঠাৎ করে সিপিএমের প্রতি অভিমান করে নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করার পরেই কি সুর বদলে গেল প্রতিকূর রহমানের? এমনকি ফিটে আদর্শ ছিল তার, যার কারণে দলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এতদিন যে লক্ষীর ভান্ডারের বিষয়টি নিয়ে তারা তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছিলেন, সেই লক্ষীর ভান্ডারের প্রশংসা শোনা গেল তার গলায়? তাহলে কি সত্যিই এই প্রতিকূরবাবুর মত ব্যক্তিদের আদর্শ বলে কিছু নেই? সেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। অনেকে বলছেন, সিপিএম থেকে প্রতিকুর রহমান পদত্যাগ করবেন, থাকবেন, নাকি তৃণমূলে যাবেন, সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। সিপিএম এমনিতেই শূন্য। আর তৃণমূলের তরী এবার ডুববে। ফলে এই দুটো দলের মধ্যে যে অভ্যন্তরীণ একটা সেটিং রয়েছে, তা আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছেন প্রতিকূর রহমান। কিন্তু যে মানুষটি কিছুদিন আগে পর্যন্ত লক্ষীর ভান্ডার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, সেই মানুষটি মুহূর্তের মধ্যেই সেই লক্ষ্মীর ভান্ডারকে ভালো বলছেন! রাজনীতিতে আদর্শের এই অবনমন হচ্ছে কি করে?
ইতিমধ্যেই প্রতিকুর রহমানকে নিয়ে একটা জল্পনা, একটা চর্চা বিভিন্ন মহলে চলছে। তবে আদর্শের এত বদল হয় কি করে? মুহূর্তের মধ্যে যে মানুষটি দল থেকে পদত্যাগ করলেন, তার কাছে কিছুদিন আগে পর্যন্ত লক্ষীর ভান্ডার ভিক্ষা বলে মনে হলেও, এখন সেই লক্ষীর ভান্ডার ভালো হয়ে যাচ্ছে কেন? তাহলে কি শুধুমাত্র তৃণমূলে যেতে হবে, আর তার আগে রাস্তা প্রশস্ত করার কারণেই প্রতিকূ্র রহমানের এই সুর বদল? শুধুমাত্র দলের ভেতরে অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে তিনি না হয় দল ছাড়ছেন। সিপিএমে থাকা যায় না, এটা বোঝা গেল। কিন্তু তাই বলে যে ভাতা দিয়ে বাংলার বেকার যুব সমাজের সর্বনাশ হচ্ছে, কিছুদিন আগে বিভিন্ন সভায় দাঁড়িয়ে সেই কথা এই প্রতিকূরবাবুর মত নেতারা বলে এসেছেন। তার মুখ থেকে মুহুর্তের মধ্যেই শুধুমাত্র সিপিএম থেকে সরে গিয়ে তৃণমূলের ঝান্ডা ধরতে হবে বলে সেই লক্ষীর ভান্ডারের প্রশংসা শোনা গেল? এটা কি সত্যিই মেনে নেওয়া যায়? তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এদিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন প্রতীকুর রহমান। আর সেখানেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রশংসা করেন তিনি। সিপিএম থেকে পদত্যাগ করা প্রতিকূর রহমান বলেন, “আমিও একসময় বলেছি, এটা দান নয়, ভিক্ষা। ভিক্ষা নয়, অধিকার চাই। কিন্তু তারপর দল আমাকে বললো, লক্ষীর ভান্ডারকে ভিক্ষা বলা যাবে না। ওটা অসংখ্য মা-বোনেদের আত্মমর্যাদার টাকা।” আর এখানেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, প্রতিকুর রহমান এবার তৃণমূলের পথেই হাঁটতে চলেছেন। কিন্তু দুদিন আগে যে লক্ষীর ভান্ডারের সমালোচনা করলেন, এখন কোন মুখে তার প্রশংসা করছেন? এর ফলে প্রতিকুর রহমানের নিজের ভাবমূর্তি যে জনমানসে প্রশ্নের মুখে পড়ে যাচ্ছে, এটা কি তিনি বুঝতে পারছেন না? নাকি সিপিএমে থাকতে পারবেন না জন্যই এবার অন্য কোনো দলের ঝান্ডা ধরতে হবে, আর তার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেক প্রকল্পকে দুদিন আগে সমালোচনা করলেও, এখন শুধুমাত্র তৃণমূলে বড় জায়গা পেতে হবে জন্যই তার এই প্রকল্পের এত প্রশংসা? প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক সমালোচকরা।
