প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ কি নিয়ম না মেনেই রাজনীতির ময়দানে পা রাখলেন? রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের এই তারকা প্রার্থীর লড়াই ঘিরে এখন এমনই এক গুরুতর আইনি প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। রেলের চাকরি থেকে আইনত ইস্তফা গৃহীত হওয়ার আগেই রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। এই শৃঙ্খলভঙ্গের তদন্ত প্রক্রিয়া চলায় তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার জেরে আসন্ন নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
রেল সূত্রের খবর, স্বপ্না বর্মণ উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ‘স্টাফ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ইনস্পেক্টর’ পদে কর্মরত ছিলেন। সরকারি নিয়ম (Railway Service Conduct Rules) অনুযায়ী, কোনো কর্মরত সরকারি কর্মচারী চাকরিতে থাকাকালীন কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন না বা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন না। অভিযোগ উঠেছে, স্বপ্না গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং দলীয় মিছিলে অংশ নেন, অথচ তখনও তিনি রেলের স্থায়ী কর্মচারী ছিলেন। এই আচরণের প্রেক্ষিতে গত ৯ মার্চ রেল দফতর তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত (Departmental Inquiry) শুরু করে।
তদন্ত শুরু হওয়ার পর, গত ১৬ মার্চ স্বপ্না বর্মণ রেলের চাকরি থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, তদন্তাধীন অবস্থায় কোনো কর্মচারীর ইস্তফা সরাসরি গ্রহণ করা যায় না। এই পরিস্থিতিতে ইস্তফা গ্রহণের দাবিতে স্বপ্না কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের এজলাসে এই স্পর্শকাতর মামলার শুনানি হয়।
শুনানি চলাকালীন রেলের পক্ষে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল সুদীপ্ত মজুমদার স্পষ্ট জানান যে, স্বপ্না বর্মণ সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। তবে রেল আদালতকে জানিয়েছে, স্বপ্না যদি তাঁর এই ভুলের জন্য দোষ স্বীকার করেন এবং লিখিতভাবে জানান যে তিনি রেলের থেকে কোনো অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা বা পেনশন দাবি করবেন না, তবেই তাঁর ইস্তফা বিবেচনার পথে হাঁটবে রেল। আদালত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে স্বপ্নাকে তাঁর চূড়ান্ত অবস্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছিল।
স্বপ্নার আইনজীবী সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই ইমেলের মাধ্যমে ‘ক্ষমা’ চাওয়া হয়েছে। তবে সেই ক্ষমা প্রার্থনা রেলের তদন্ত প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আগামী ২৭ মার্চ (শুক্রবার) এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে যদি রেলের থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) বা ইস্তফা গ্রহণের চূড়ান্ত নথি না মেলে, তবে স্ক্রুটিনির সময় তাঁর প্রার্থীপদ বাতিল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এখন দেখার, নিয়মভঙ্গের এই পাহাড় প্রমাণ বাধা টপকে স্বপ্না শেষ পর্যন্ত ভোটের ময়দানে নামতে পারেন কি না।
