প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আইপ্যাক (I-PAC) মামলায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির (ED) মধ্যে বেনজির আইনি লড়াই চলল। বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে এই শুনানির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘মৌলিক অধিকার’ বনাম ‘আইনের শাসন’।
এদিন রাজ্যের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল ইডির দায়ের করা পিটিশনের বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তোলেন। তিনি আদালতকে জানান, মামলার আবেদনকারী হিসেবে ইডির যে ডেপুটি ডিরেক্টরের নাম রয়েছে, তিনি আদতে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন না। সিব্বল বলেন, “যিনি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে আদালতে আসেন, তাঁকে স্পষ্ট ভাবে বলতে হবে যে তাঁর কোন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে? এটি কোনও জনস্বার্থ মামলা নয়।” তাঁর দাবি, তদন্ত করা কোনো মৌলিক অধিকার নয়, বরং এটি একটি সংবিধিবদ্ধ অধিকার।
সিব্বলের এই যুক্তির প্রেক্ষিতে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “হতে পারে ওই আধিকারিক (ইডির ডেপুটি ডিরেক্টর) সরাসরি সামনে ছিলেন না, কিন্তু তিনি হয়তো ছায়ার মতো (তদারকিতে) পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন।”
সিব্বল পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, “যদি আইনের শাসন লঙ্ঘিত হয়, তবে স্পষ্ট করে বলতে হবে—কী ভাবে লঙ্ঘন হয়েছে? আইনের শাসন প্রতিফলিত হয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪, ১৬, ১৯-এ।” অর্থাৎ, সুনির্দিষ্ট ধারা ছাড়া শুধু ‘আইনের শাসন’ কথাটি বলে মামলা করা যায় না বলে তিনি দাবি করেন।
এর জবাবে বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়া এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “মৌলিক অধিকার সব সময় ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে হবে, এমন নয়। আইনের শাসন নিজেই একটি মৌলিক নীতি। তাই এর লঙ্ঘন হলে, সেটাও আদালতে তোলা যেতে পারে।”
ইডির আইনজীবী এসভি রাজু সিব্বলের এই সমস্ত দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানান, আসলে ওই দিন ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কীভাবে আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল, সেই পুরো ঘটনা তিনি আদালতে সবিস্তারে বলবেন। তিনি দাবি করেন, সিব্বল নিজের মতো যুক্তি সাজাতেই পারেন, কিন্তু তদন্তে হস্তক্ষেপের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
বিচারপতি মিশ্র শুনানির এক পর্যায়ে মন্তব্য করেন যে, তদন্ত চলাকালীন রাজ্যের শীর্ষ পদের কারও সেখানে সশরীরে প্রবেশ করা এবং কাজ আটকে দেওয়া কোনো “সুখের পরিস্থিতি” নয়। মামলার পরবর্তী শুনানিতে ইডি তাদের পাল্টা তথ্য প্রমাণ পেশ করবে।
