প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬। বাংলার রাজনৈতিক আঙিনায় আজ দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটের রণদামামা বাজার পর থেকেই একের পর এক জনসভা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু আজ বিকেল ৪টের কর্মসূচিটি অন্য সব সভার থেকে আলাদা। আজ কোনো বিশাল জনসভা নয়, বরং সরাসরি বাংলার বুথ স্তরের কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছেন মোদী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূল স্তরের সংগঠনকে একসূত্রে বাঁধতে এটিই মোদীর ‘ডিজিটাল ব্রহ্মাস্ত্র’।
বিজেপির দীর্ঘদিনের স্লোগান ‘মেরা বুথ সবসে মজবুত’। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচির গুরুত্ব কয়েক গুণ বেশি। আজ বিকেল ৪টের সময় প্রধানমন্ত্রী ‘নমো অ্যাপ’-এর (NaMo App) মাধ্যমে রাজ্যের ব্লক ও মণ্ডলের কয়েক হাজার বুথ কর্মীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। কোনো মধ্যস্থতাকারী নেতা ছাড়াই নিচুতলার কর্মীরা সরাসরি তাঁদের সমস্যার কথা এবং ফিল্ড রিপোর্টের তথ্য তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। মোদী নিজেও তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা শুনবেন এবং আগামীর দাওয়াই দেবেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বুথভিত্তিক বৈঠকের পেছনে তিনটি গভীর রণকৌশল কাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গের বহু বুথ কর্মী প্রায়ই শাসকদলের রোষানলে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নিজে যখন সরাসরি নিচুতলার কর্মীর নাম ধরে ডাকেন বা তাঁর কথা শোনেন, তখন সেই কর্মীর মনোবল কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই ‘পার্সোনাল টাচ’ বা ব্যক্তিগত সংযোগই বুথ স্তরে লড়াই করার শক্তি জোগাবে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির। অনেক সময় দেখা যায়, শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা নিচুতলায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে কিছুটা ফিকে হয়ে যায়। কিন্তু এই ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে মোদী সরাসরি তাঁর ‘টিপস’ পৌঁছে দিচ্ছেন শেষ সারির কর্মীর কাছে। এর ফলে তথ্যের বিকৃতি ঘটার সুযোগ থাকে না এবং সরাসরি ‘হাই-কমান্ড’-এর নির্দেশে কাজ করার অনুভূতি তৈরি হয়। তৃণমূল যখন গ্রাম বাংলায় নিজস্ব কায়দায় প্রচার চালাচ্ছে, বিজেপি তখন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে প্রতি বুথে পৌঁছে যেতে চাইছে। গতকালই তামিলনাড়ুর কর্মীদের সঙ্গে মোদীর বৈঠক নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়েছে। আজ বাংলার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী একইভাবে আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকলে তা বিরোধীদের অস্বস্তি ও রক্তচাপ—দুটোই বাড়িয়ে দেবে।
সূত্রের খবর, আজকের এই বৈঠককে কেন্দ্র করে জেলা থেকে ব্লক—সর্বত্র সাজসাজ রব। বহু জায়গায় বড় এলইডি স্ক্রিন লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা শোনানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডলে কর্মীদের জমায়েত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, “প্রধানমন্ত্রী যখন সরাসরি বুথ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন, তখন বিরোধী পক্ষের তাসের ঘর নড়বড়ে হয়ে যায়। আজ বিকেল ৪ টের পর থেকে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন হাওয়া বইতে শুরু করবে।”
এখন দেখার, মোদীর দেওয়া এই ডিজিটাল রণকৌশল আসন্ন নির্বাচনে ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে। তবে বৈঠকের আগেই যে বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়চড়িয়ে বাড়ছে এবং বিরোধী শিবিরে জল্পনা শুরু হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
