প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আজ থেকেই আবার ধর্নায় বসছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যখন তার কাছে বিকল্প কোনো উপায় থাকে না, যখন তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনি সবদিক থেকেই বিপাকে পড়ছেন, তখনই তিনি এই ধর্না আন্দোলনের রাস্তা বেছে নেন। বরাবর এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অভ্যাসের মধ্যে পড়ে। অন্তত বিশেষজ্ঞরা তেমনটাই বলছেন। এবারও যখন এসআইআরে প্রচুর অবৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারছেন, তিনি আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না। আর সেই কারণে শেষ মুহূর্তে তার এই ধর্নার নাটক বলেই দাবি করছে বিরোধীরা। তবে একেবারে মিষ্টি ভাষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধর্না নিয়ে তাকে খোঁচা দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরু হওয়ার আগে থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বিরোধিতা করছেন। এমনকি তিনি একসময় এই কথাও বলেছিলেন যে, তিনি এসআইআর হতে দেবেন না। কিন্তু তার এই সমস্ত বক্তব্যকে পাত্তাই দেয়নি নির্বাচন কমিশন। এমনকি তিনিও এসআইআর হওয়ার পর চুপচাপ সমস্ত কিছু সহ্য করেছেন। তবে যখন তিনি দেখতে পেয়েছেন যে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬৪ লক্ষের মত মানুষের নাম বাদ দিয়েছে এবং বিচারাধীন তালিকায় আরও ৬০ লক্ষ মানুষের নাম রয়েছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী রীতিমত দিশেহারা হয়ে গিয়েছেন তিনি। এবার গ্রাউন্ড রিয়্যালিটিটা বুঝতে পারছেন। বুঝতে পারছেন, এইভাবে তার পক্ষে ক্ষমতায় আসা মুশকিল। তাই এখন যেভাবেই হোক, ক্ষমতায় ধরে রাখার জন্য আবার রাস্তায় বসে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একটা নাটক শুরু করে দিলেন বলেই মনে করছে বিরোধীরা। আর সেই ব্যাপারেই এবার প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শমীকবাবু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ধর্না দেয়, আমরা কি করতে পারি বলুন? আমরা এসব ব্যাপারে বলতে যাব কেন? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর একটা সম্মান আছে না! উনি ছবি আঁকুন, মিছিল করুন, মিটিং করুন, কালো কোর্ট পড়ে নিন, ধর্না দিন। আর যাই হোক, তারপরেও তো তিনি আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী ধর্না দিচ্ছেন। ওনার মনে হয়েছে, এই সময়টা ভালো ধর্না দেওয়ার ক্ষেত্রে। আবহাওয়াও ভালো।”
