Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

আলিমুদ্দিনে চণ্ডীপাঠের সুর! মার্কসবাদী ডেরার সামনে আজ যা ঘটল, তা অভাবনীয়!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেবীপক্ষে কলকাতার বুকে এক অভূতপূর্ব এবং বিচিত্র রাজনৈতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। আজ, মঙ্গলবার সকাল থেকেই সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সদর দফতর মুজফফর আহমেদ ভবনের ঠিক উল্টোদিকে মঞ্চ বেঁধে মাইক বাজিয়ে সাড়ম্বরে চণ্ডীপাঠের আয়োজন করা হয়। এজেসি বোস রোড থেকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে ঢোকার মুখে থাকা একটি পেট্রোল পাম্পের পাশে এই ধর্মীয় আসর বসে।
একদিকে যখন মার্কসবাদী নাস্তিকতার চিরন্তন পীঠস্থান আলিমুদ্দিন, ঠিক তার ঢিল ছোড়া দূরত্বেই এমন সনাতনী মন্ত্রোচ্চারণ ঘিরে আজ সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র কৌতূহল ও ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

এই চণ্ডীপাঠ কর্মসূচির মূল উদ্যোক্তা এনডিএ (NDA)-এর শরিক দল ‘রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (RPI – আঠাওয়াল)। তবে মঞ্চে সনাতনী হিন্দুদের পাশাপাশি বিজেপির পরিচিত মুখ তথা বিশিষ্ট নেতা সায়ন্তন বসুর উপস্থিতি রাজনৈতিক পারদ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। চণ্ডীপাঠের মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সায়ন্তন বসু বলেন, “এ সমস্ত এলাকায় কেউ কোনোদিন চণ্ডীপাঠের কথা ভাবতেই পারত না। বাংলার সংস্কৃতি কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এখানে চণ্ডীপাঠ হওয়া মানে এটা একটা বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন।”

চণ্ডীপাঠের মঞ্চে উপস্থিত সনাতনপন্থীদের দাবি, বামপন্থীদের শুভবুদ্ধি উদয়ের লক্ষ্যেই এই আয়োজন। আয়োজকদের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জানান, “যখন কেউ কোনও ভুল বা পাপ করে, সে বুঝতে পারে না। বামেদের মনে যে পাপ সঞ্চয় হয়েছে, তা খণ্ডন করতে আমরা শ্রী শ্রী চণ্ডীর মহামন্ত্র মাইক বাজিয়ে ওদের কানের গোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। এই পবিত্র মন্ত্রের জেরে ওরা যেন পাপ থেকে মুক্ত হয়।”

আলিমুদ্দিনের দোরগোড়ায় এই চণ্ডীপাঠের আসর নিয়ে অবশ্য বিশেষ মাথা ঘামাতে নারাজ সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এ প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, যারা করছে এটা সম্পূর্ণ তাদের বিষয়, এতে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। অন্য দিকে, সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা সুজন চক্রবর্তী কড়া ভাষায় খোঁচা দিয়ে বলেন, “ওদের প্রয়োজন মনে হয়েছে, তাই রাস্তার নির্দিষ্ট জায়গায় করেছে। কার কী এসে গেল? ওরা যদি কাজ কম থাকে আর মনে হয় চণ্ডীপাঠ করাই একমাত্র কর্তব্য, তবে মাসের ৩০ দিনই করুক, বন্ধ যেন না হয়! আর আমাদের দলে এমন অনেক কর্মী আছেন, যাঁরা ওদের চেয়েও অনেক নিখুঁত ও সঠিকভাবে চণ্ডীপাঠ করাটা শিখিয়ে দিতে পারবেন।” পরিস্থিতি সামলাতে আজ সকালে সিপিএম রাজ্য দফতরের বাইরে একটি পাল্টা পোস্টার সাঁটানো হয়, যেখানে লেখা ছিল—’সাম্প্রদায়িক, জাতিবিদ্বেষী, বর্ণবিদ্বেষীরা ছাড়া সবাই স্বাগত। শুভ শারদীয়া।’ উল্লেখ্য, আজ একদিকে যখন এই চণ্ডীপাঠকে কেন্দ্র করে আলিমুদ্দিনের মোড় সরগরম, ঠিক তার ১৫০ মিটার দূরে বিকেলে বামেদের এক নাগরিক কনভেনশনে যোগ দিতে কলকাতায় পা রাখছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ ও প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা। একই দিনে এই জোড়া কর্মসূচি ঘিরে আজ দিনভর টানটান উত্তেজনা বজায় থাকল মুজফফর আহমেদ ভবনের আশেপাশের এলাকায়।

Exit mobile version