Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

এজলাসের ভেতরেই ধুন্ধুমার! বিচারককে ‘দেখে নেওয়ার’ চরম হুমকি, আলিপুর কোর্টের নজিরবিহীন ঘটনায় কাঠগড়ায় মমতার আইনজীবী!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শান্ত আদালত চত্বর আচমকাই যেন হয়ে উঠল কুরুক্ষেত্র! খোদ বিচারকের এজলাসে ঢুকে তাঁকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ, ‘দেখে নেওয়ার’ হুঁশিয়ারি এবং তাঁর সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল আলিপুর আদালতে। কাঠগড়ায় স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নামী আইনজীবী তথা বর্ষীয়ান নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর সঙ্গী একদল আইনজীবী। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, নিজের নিরাপত্তা এবং বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষার্থে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে জেলা জজের দ্বারস্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিচারক!

তৃণমূলের অন্দরের ভাঙন ও তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। সম্প্রতি দলের প্রতীক এবং কোটি কোটি টাকার দলীয় তহবিল ব্যবহার নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে আলিপুর আদালতে মামলা দায়ের করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় শিবির (স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী জুঁই বিশ্বাসের করা মামলা)। সেই মামলার শুনানিতে আলিপুর সিনিয়র ডিভিশন আদালতের বিচারক একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেন। নির্দেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা কালীঘাট শিবিরের নেতারা নিজেদের দলের পদাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না এবং দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা সম্পত্তি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ করতে পারবেন না।

অভিযোগ, কালীঘাট শিবিরের কোনো বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে এই বড় নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এর পরেই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন এগিয়ে আনার জন্য বিচারকের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন মমতাপন্থী আইনজীবীরা। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল আইনজীবী এজলাসের ভেতরে ঢুকে চরম বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।জেলা জজকে লেখা চিঠিতে ক্ষুব্ধ বিচারক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাদানুবাদ চলাকালীন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ কয়েকজন আইনজীবী তাঁকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, “আমাকে দেখে নেওয়া হবে, আমি নাকি সিন্ডিকেট করি এবং সেই সিন্ডিকেট তাঁরা ভেঙে দেবেন।” শুধু তাই নয়, বিচারককে উদ্দেশ্য করে চরম ধমকের সুরে বলা হয়, “আপনি কোথায় থাকেন, আমরা তার সব খবর জানি!” শুনানিতে কেন স্থগিতাদেশ দেওয়া হলো, তার প্রতিটি কারণ বিচারককে ডায়রিতে লিখে রাখার জন্যেও জোর করা হয়।

এজলাসের ভেতরে আইনজীবীদের এই ‘দাদাগিরি’ ও অসংসদীয় ভাষার ব্যবহারে থমকে যায় আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম। বিচারক তাঁর চিঠিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, প্রকাশ্য এজলাসে একজন বিচারকের সততা নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর তিনি মামলাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন এবং অভিযুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক অ্যাকশন নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। এই ঘটনার পর আলিপুর আদালত চত্বর জুড়ে তীব্র উত্তেজনা এবং আইনজীবীদের একাংশের আচরণ নিয়ে ব্যাপক নিন্দার ঝড় উঠেছে।

Exit mobile version