প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তৈরি হতে চলেছে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন মাইলফলক। আগামীকাল, ৭ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার), দেশের সরকার প্রধান (Executive Head of Government) হিসেবে একটানা সফলভাবে ২৫ বছর (এক চতুর্থাংশ শতাব্দী) পূর্ণ করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে রাজ্য ও কেন্দ্র মিলিয়ে আর কোনও নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতা বিরতিহীনভাবে এত দীর্ঘ সময় শাসনপ্রধানের সাংবিধানিক পদে আসীন থাকার নজির গড়তে পারেননি। এই ঐতিহাসিক বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টির মুহূর্তেই আগামীকাল নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে একটি মেগা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন।
নরেন্দ্র মোদি প্রথমবার গুজরাটের ১৪তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন ৭ অক্টোবর ২০০১ সালে। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা সাড়ে ১২ বছর তিনি সাফল্যের সাথে গুজরাটের শাসনভার সামলান। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বর্তমানে তিনি টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ৭ অক্টোবর ২০২৬—কোনো বিরতি বা পদত্যাগ ছাড়াই ঠিক ২৫ বছর (৯,১৩০ দিনেরও বেশি) পূর্ণ হচ্ছে তাঁর। ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদে একটানা শাসনপ্রধান থাকার এটিই সর্বকালীন সর্বশ্রেষ্ঠ রেকর্ড।
প্রধানমন্ত্রীর এই রূপান্তরমূলক রাজনৈতিক যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে দিল্লি বিজেপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে এই মেগা ইভেন্টটি আয়োজিত হচ্ছে।এই মূল ভেন্যুতে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৫,০০০ জন আমন্ত্রিত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। মূল অনুষ্ঠানের আগে দিল্লির প্রতিটি সাংগঠনিক মণ্ডল থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একটি আকর্ষণীয় ‘সেবা জ্যোতি’ মিছিল বের করা হবে, যা পরে মূল স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে গিয়ে একীভূত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ বছরের প্রশাসনিক সুশাসন এবং তাঁর ৭৬তম জন্মদিন (১৭ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষে বিজেপি দেশজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ (Sewa Sankalp Abhiyan) উদযাপন করছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই দেশব্যাপী কর্মসূচি চলবে আগামী ১৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। “জনসেবা থেকে দেশসেবা” (Jan Seva Se Desh Seva) স্লোগানকে সামনে রেখে এই এক মাস ধরে রক্তদান শিবির, স্বচ্ছতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং দরিদ্র কল্যাণমূলক বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূল স্তরে মোদি সরকারের সুশাসনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার নির্মাতা এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতের শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতির উত্থান—মোদি জমানার এই ২৫ বছরের প্রশাসনিক ধারাকে বিজেপি নেতৃত্ব ‘সুশাসন ও দরিদ্র কল্যাণের স্বর্ণযুগ’ হিসেবেই ব্যাখ্যা করছে।
