প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে মনে করেন। তিনি মনে করেন, তিনি যা মনে করছেন, সেটাই ঠিক। কিন্তু তিনি ভুলে যান যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যখন অপমান করেন, সেটা কতটা যুক্তিপূর্ণ? এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গতকাল যখন সিভি আনন্দ বোস পদত্যাগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থেকে এবং তারপর যখন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অস্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবিকে দায়িত্ব দেওয়া হলো, তখনই তিনি চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এতদিন যে সিভি আনন্দ বোস সম্পর্কে তিনি নানা কথা বলতেন, সেই সিভি আনন্দ বোসের প্রতি দরদ উথলে উঠলো তাঁর। শুধু তাই নয়, তার সঙ্গে আলোচনা না করেই কেন পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তবে সত্যিই কি এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কোনো বাধ্যবাধকতা রয়েছে? এবার তা নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
ভোটের মুখেই গতকাল যেভাবে সিভি আনন্দ বোস পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থেকে পদত্যাগ করলেন, তাতে অনেকেই গোটা বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন চর্চা করছেন। অনেকেই বলছেন, এটা বড় কোনো ইঙ্গিত নয় তো? আর তার জায়গায় যেভাবে প্রাক্তন আইপিএস অফিসারকে পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে অনেকে বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের যে আইনশৃংখলার অবনতি হচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে হয়ত কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই এইরকম একজন নামজাদা ব্যক্তিকে বাংলার সাংবিধানিক প্রধান করা হয়েছে। তবে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রচন্ড গোঁসা হয়েছে যে, তাকে না জানিয়ে কেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কোনো একজনকে করা হলো? আর এখানেই প্রশ্ন, সত্যিই কি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতেই হবে? তিনি কি সব ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে জানান? তিনি কি আদৌ যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো মানেন? যখন প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন, এমনকি কখনও কখনও শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করে যান, তখন কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে হয় না, সৌজন্যতার কথা? প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যখন তিনি কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সমস্ত সৌজন্যতা কোথায় থাকে? আর সেই সমস্ত বিষয় তুলে ধরেই রাজ্যপাল বদল হওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জানানোর যে কোনো প্রশ্নই নেই, তা জানিয়ে দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
এদিন এই ব্যাপারে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে একটি প্রশ্ন করা হয়। আর সেই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কেন আলোচনা করা হবে? তিনি কি মালিক? সব বিষয়েই কি তার সঙ্গে কথা বলতে হবে? তিনি তো প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এমন কি রাষ্ট্রপতিরও সমালোচনা করেন। তাহলে তার সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করার কোনো প্রয়োজন নেই।”
