Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“আমি লড়তেই এসেছি, আর লড়ব চৌরঙ্গী থেকেই!” শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর হুঙ্কার সন্তোষ পাঠকের!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। গত কয়েক দশকের কংগ্রেসী রাজনীতির পরিচিত মুখ তথা কলকাতা পুরসভার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক এখন পদ্ম শিবিরের সৈনিক। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর, মঙ্গলবার ভবানীপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে সন্তোষ পাঠক যা জানালেন, তাতে পরিষ্কার যে তিনি এবার কলকাতায় তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গে হানা দিতে কোমর বেঁধে নামছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সন্তোষ পাঠক অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, “আমি শুধু নামেই বিজেপিতে আসিনি, আমি লড়তেই এসেছি। আর আমার লড়াইয়ের ময়দান হবে চৌরঙ্গী।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই তিনি পদ্ম প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বও তাঁকে সেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই এলাকায় সন্তোষ পাঠকের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত জনসংযোগ এবং কাউন্সিলর হিসেবে তাঁর কাজের ট্র্যাক রেকর্ড বিজেপির জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।

ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সন্তোষ পাঠকের এই সাক্ষাৎকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। সূত্রের খবর, উত্তর ও মধ্য কলকাতার হিন্দিভাষী ভোটার এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সমর্থন কীভাবে বিজেপির দিকে টানা যায়, তা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর মতো লড়াকু নেতার মন্ত্রণায় সন্তোষ পাঠক এবার চৌরঙ্গীর ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।

সন্তোষ পাঠক বারবারই দাবি করেছেন যে, বর্তমান শাসক দলের আমলে রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন এবং উন্নয়নের চাকা থমকে গেছে। তাঁর মতে, তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হলে বর্তমানে বিজেপিই একমাত্র শক্তিশালী বিকল্প। এই আদর্শগত লড়াইকে সামনে রেখেই তিনি দল পরিবর্তন করেছেন বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের কংগ্রেসী তকমা ঝেড়ে ফেলে গেরুয়া উত্তরীয় গায়ে জড়িয়ে তিনি এখন খাস কলকাতায় বিজেপিকে জেতাতে মরিয়া।

চৌরঙ্গী বরাবরই কলকাতার একটি হাই-প্রোফাইল আসন। এখানে তৃণমূলের আধিপত্য ভাঙা যেকোনো বিরোধীর কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সন্তোষ পাঠকের মতো স্থানীয় নেতার অন্তর্ভুক্তি সেই লড়াইকে এবার অনেক বেশি কঠিন করে তুলবে শাসক দলের জন্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সন্তোষের নিজের ভোটব্যাঙ্ক এবং বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি এক হলে চৌরঙ্গীর ফল এবার চমকপ্রদ হতে পারে।

Exit mobile version