প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-প্রথম দফার ভোট মিটতে না মিটতেই বঙ্গ রাজনীতিতে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ নিউটাউনের এক হোটেল থেকে সাংবাদিক বৈঠকে শাহের দেওয়া ‘সুনামি’ তত্ত্ব ঘিরে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক মুখে শাহের এই মন্তব্য কি নিছকই আত্মবিশ্বাস, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর গাণিতিক সমীকরণ? তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
সাধারণত ভোট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত দাবি করে। কিন্তু অমিত শাহ এদিন কিছুটা কৌশলী। তাঁর কথায়, ‘‘দ্বিতীয় দফার আসনগুলি আলাদা করে নয়, পুরো পশ্চিমবঙ্গই আমাদের জন্য কঠিন ছিল।’’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘কঠিন’ শব্দটি ব্যবহার করে শাহ আসলে কর্মীদের এই বার্তাই দিতে চাইলেন যে, লড়াইটা অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি এবং এক ইঞ্চি জমি ছাড়ার অবকাশ নেই। বর্তমানে বিজেপির দখলে থাকা ৭৭টি আসনের উল্লেখ করে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সরকার কোনো দল তৈরি করে না, তৈরি করে সাধারণ মানুষ।
শাহের মন্তব্যের সবথেকে চমকপ্রদ অংশ হলো ‘সুনামি’ শব্দটির প্রয়োগ। রাজনৈতিক মহলের মতে, শাহ দাবি করছেন জনস্রোত বিজেপির দিকে বইছে যা কেবল জয় নয়, তৃণমূলের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে শাসক শিবিরের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করাও এই রণকৌশলের অংশ হতে পারে।
গত নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছিল। শাহের লক্ষ্য এবার সেই সংখ্যাকে ম্যাজিক ফিগার পার করানো। প্রথম দফার ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ হলেও, উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের কিছু পকেটে রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল। ২৯ তারিখের দ্বিতীয় দফায় মূলত হাইভোল্টেজ কেন্দ্রগুলিতে ভোট। সেখানে প্রথম দফার মতো শান্তি বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে।
অমিত শাহ যখন সাংবাদিক বৈঠক থেকে জয়ের হুঙ্কার দিচ্ছেন, তখন রাজ্যের বিভিন্ন মহলে চর্চা চলছে দ্বিতীয় দফার নিরাপত্তা নিয়ে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতা এবং কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরাও। শাহের ‘সুনামি’ দেখার দাবি যদি বুথ স্তরে প্রতিফলিত হয়, তবে দ্বিতীয় দফার ভোট যে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে, তা বলাই বাহুল্য।
অমিত শাহের এই ‘সুনামি’র দাবি কি বাস্তবের দোরগোড়ায় নাকি এটি কেবলই নির্বাচনী গিমিক? এর উত্তর দেবে ২৯ তারিখের ইভিএম এবং শেষ পর্যন্ত গণনার ফলাফল। তবে শাহের এই মন্তব্য যে বাংলার রাজনৈতিক পারদকে কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
