প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বঙ্গে দ্বিতীয় দফার মহারণের ঠিক মুখেই বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল। আজ হিঙ্গলগঞ্জে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর হাই-প্রোফাইল জনসভা। কিন্তু সেই সভার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই যেন বজ্রপাত হলো স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর। হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসি (OC) সন্দীপ সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে এই ঘটনা উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে এক ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, হিঙ্গলগঞ্জ থানার প্রাক্তন ওসির বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল। বিশেষ করে এলাকায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সব দলের জন্য সমান সুযোগ বজায় রাখতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সূত্রের দাবি, এলাকায় টাকা বিলির একটি ঘটনা এবং স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে ওসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এরপরই কমিশন কড়া অবস্থান নিয়ে তাঁকে অবিলম্বে পদ থেকে সরানোর এবং বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়।
আগামী ২৯ এপ্রিল হিঙ্গলগঞ্জে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। তার ঠিক ৫ দিন আগে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিবকে আজ সকাল ১১টার মধ্যেই এই বিষয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার ডেডলাইন দিয়েছিল।২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের ধারা বজায় রেখে ২০২৬-এর এই বিধানসভা নির্বাচনেও (বা সাধারণ নির্বাচনে) কমিশন যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
অমিত শাহর সভার আগে পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে এভাবে সরিয়ে দেওয়া শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধীরা একে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখলেও, শাসক শিবিরের একাংশ একে কমিশনের ‘অতিসক্রিয়তা’ বলে মনে করছে।
আপাতত হিঙ্গলগঞ্জ থানায় নতুন আধিকারিক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভার কড়া নিরাপত্তার মাঝে পুলিশের শীর্ষপদে এই রদবদল প্রশাসনিক স্তরে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
