প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-এরাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সীমান্ত সুরক্ষা এবং জমি জট নিয়ে সরাসরি এরাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বেনজির আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শিলিগুড়িতে সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-র একটি অফিশিয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট অভিযোগ তোলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে কেন্দ্রের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও বিগত তৃণমূল সরকার বিএসএফ (BSF) এবং এসএসবি (SSB)-র জন্য ১১২৯ একর জমি আটকে রেখেছিল। একই মঞ্চ থেকে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে অমিত শাহ জানান, ক্ষমতা বদলের পরই দীর্ঘদিনের এই জটিল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে।
শিলিগুড়ির মঞ্চ থেকে দেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিগত সরকারের অসহযোগিতার খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান— “আমরা ২০১৪ সাল থেকে এরাজ্যে বিএসএফ (BSF) এবং এসএসবি (SSB)-র পরিকাঠামো ও সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ১১২৯ একর জমি চেয়ে আসছিলাম। কিন্তু এতগুলো বছর কেটে গেলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই জমি দেয়নি। আমি নিজে ওনার অফিসে পর্যন্ত চলে গিয়েছিলাম জমি চাইতে। একপ্রকার হাতে-পায়ে ধরে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম, তবু উনি সীমান্ত সুরক্ষার জন্য এক ছটাক জমিও বরাদ্দ করেননি।”
বিগত জমানার তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক তৎপরতার প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন— “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা ২০১৪ সাল থেকে আটকে রেখেছিলেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আসার পরই সেই ১১২৯ একর জমি বিএসএফ এবং এসএসবি-র হাতে তুলে দিয়েছেন। বর্তমান সরকার আসার পর সীমান্ত সুরক্ষার এই মেগা প্রজেক্টের কাজ গতি পেয়েছে।” অমিত শাহ আরও জানান, বাংলাদেশ ও নেপাল সীমান্তের নিরাপত্তা ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বর্তমান রাজ্য সরকারের এই সহযোগিতার ফলে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী অনেক বেশি শক্তিশালী পরিকাঠামো পাবে। এদিকে অমিত শাহের এই আক্রমণের পর বর্তমানে বিরোধী আসনে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অফিশিয়াল পাল্টা প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়ে অমিত শাহের এই মন্তব্য আসন্ন দিনগুলিতে রাজ্য রাজনীতিতে জমি নীতি এবং সীমান্ত সুরক্ষার বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিল।
