Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

জনবিন্যাসের পরিবর্তন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না: পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার সীমান্ত নিয়ে বিএসএফ কর্তাদের কড়া বার্তা অমিত শাহের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হয়ে সুপরিকল্পিত অনুপ্রবেশের মাধ্যমে ভারতের মাটিতে ডেমোগ্রাফি বা জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা আর বরদাস্ত করা হবে না— ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের লঙ্কামুড়া চৌকিতে দাঁড়িয়ে বিএসএফ-এর শীর্ষ কর্তাদের সামনে এই কড়া এবং চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি স্পষ্ট ভাষায় শুনিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যাঁরা সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে ঢিলেমি পছন্দ করতেন, শাহের এই বার্তা তাঁদের রাজনৈতিক সমীকরণকে বড়সড় ধাক্কা দিতে চলেছে। দীর্ঘ বছর ধরে অনুপ্রবেশের যে অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা বা বিহারের মতো সীমান্ত রাজ্যগুলিতে উঠছিল, এবার সেই সমস্যাকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে সম্পূর্ণ অ্যাকশন মোডে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অনুপ্রবেশের কারণে যাতে সীমান্ত রাজ্যগুলির জনসংখ্যার ভারসাম্য বা জনবিন্যাস বদলে না যায়, তা নিশ্চিত করা কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিজেপি শিবিরের দাবি, এই বার্তা আসলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রের সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বহিঃপ্রকাশ। দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো রকম তোষণ বা ঢিলেমি সইবে না মোদী সরকার— শাহের বক্তব্যে এই ইঙ্গিতই স্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যাঁরা সীমান্ত পাহারাকে হালকাভাবে নেওয়ার পক্ষপাতী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বার্তা তাঁদের পিঠে এক অদৃশ্য চাবুক।

সনাতন পদ্ধতিতে শুধু জওয়ান মোতায়েন করে দীর্ঘ সীমান্ত পাহারা দেওয়ার দিন এবার অতীত। অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন সম্পূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘স্মার্ট বর্ডার’ (Smart Border) প্রজেক্টের কথা, যা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্তে এবার দেওয়াল তুলবে হাই-টেক ড্রোন, থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সিকিউরিটি গ্রিড। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হাই-টেক নজরদারি চালু হলে সীমান্ত পারের বেআইনি সিন্ডিকেটগুলির কারবার পুরোপুরি থমকে যেতে বাধ্য।

অনুপ্রবেশের এই চক্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে বিএসএফ, রাজ্য পুলিশ এবং সীমান্ত এলাকার স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বয়ের মাধ্যমে একসাথে কাজ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় এখন সুশাসন এবং ক্ষমতায় শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি সরকার। ফলে দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আর নবান্নের মধ্যে সমন্বয় এখন ১০০ শতাংশ মসৃণ হওয়ার কথা। পূর্বতন জমানায় বিএসএফ-এর সাথে রাজ্য প্রশাসনের যে সংঘাতের ছবি বারবার দেখা যেত, বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকারের জমানায় সেই বাধা কেটে গেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তোষণমুক্ত সমাজ গড়তে কেন্দ্র ও রাজ্য এবার যৌথভাবে এগোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলার মানুষ যে পরিবর্তনের আশা নিয়ে নতুন সরকারকে নবান্নে বসিয়েছেন, অমিত শাহের এই সীমান্ত সফর প্রমাণ করে দিল— সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে এবং সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র করতে কেন্দ্র ও রাজ্য একযোগে এক চুলও জমি ছাড়তে রাজি নয়।

Exit mobile version