প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটার তালিকা সংশোধন তথা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় চরম শিখরে পৌঁছে গেল। দিল্লির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেস ও ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) শিবিরের ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ ও সমাবেশের পাল্টা জবাবে এবার সরাসরি রণংদেহী মেজাজে ময়দানে নামলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গতকাল, সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায়, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের মোজামজাহি মার্কেটের এক মেগা জনসভা থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, বিরোধীরা আসলে দেশের বুকে অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে। বিজেপির আয়োজিত ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ (Save Democracy, Remove Anarchy) পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানান, দিল্লিতে বিরোধী জোট যে সমাবেশ করেছে তা প্রকৃতপক্ষে ভোট বাঁচানোর জন্য নয়, ওটা ছিল ‘অনুপ্রবেশকারী বাঁচাও’ আন্দোলন।
ভোটার তালিকা থেকে বিরোধীদের ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সঠিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে অমিত শাহ জানান, এই ১৩ কোটির মধ্যে প্রায় ৬.১৫ কোটি মানুষ স্থানান্তরিত (Shifted) হয়েছেন, এবং ২.৮ থেকে ৩ কোটি ভোটার ইতিপূর্বেই মারা গিয়েছেন। বাকি থাকা প্রায় ৩ কোটি নাম আসলে সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন এবং তারা অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, যাদের নাম ভোটার তালিকায় ঢুকেছিল। কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। তিনি এই ৩ কোটি জাল নাম বাদ দেওয়ায় আপত্তি জানাচ্ছেন, কারণ এই অনুপ্রবেশকারীরাই হলো ইন্ডিয়া ব্লকের আসল ভোটব্যাঙ্ক। মৃত ও জাল ভোটারদের নাম ভাঙিয়ে কারচুপি করে ক্ষমতায় আসতে চায় ওরা।”
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মোদী সরকারের অনড় ও কড়া অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন, যত শক্তি আছে বিরোধীরা প্রয়োগ করে দেখুক, বিজেপি দেশের ভোটার তালিকা থেকে প্রতিটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে বিতাড়িত করবেই। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “ভারতে অরাজকতা সৃষ্টির কোনও ঠাঁই নেই। এই দেশে শুধুমাত্র ভারতের বৈধ নাগরিকরাই থাকবেন এবং কেবল তারাই ভোট দিতে পারবেন।”
ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ (SIR) এবং ইভিএম (EVM) নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার অপপ্রচারের জবাবে রাহুল গান্ধীকে সরাসরি সংসদীয় বিতর্কের খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী হাতে সংবিধান নিয়ে ঘোরেন কিন্তু সংসদ চলতে দেন না। যদি ক্ষমতা থাকে, তবে আসুন। সরকার এই বিষয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন (Special Session of Parliament) ডাকতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কিন্তু উনি বিতর্কে আসবেন না, কারণ কংগ্রেস কেবল অরাজকতার রাজনীতি করেই খবরে টিকে থাকতে চায়।” হায়দরাবাদের এই জনসভা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই চরম হুঁশিয়ারি জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বিজেপি বনাম বিরোধী জোটের এই লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
