প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক গোপন অধ্যায় আজ নিজেই প্রকাশ্যে আনলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ঠিক পরেই শুভেন্দু অধিকারীকে প্রথম ফোনটি করেছিলেন তিনি। কিন্তু ঠিক কী কথা হয়েছিল ক্ষমতা হস্তান্তরের সেই প্রথম ফোনালাপে? আজ কলকাতার এক হাই-ভোল্টেজ জনসভা থেকে সেই ফোনালাপের ভেতরের বিস্ফোরক তথ্য খোলসা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই। তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালে বাংলায় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি মুছে ফেলার এক গভীর চক্রান্ত চলেছিল। আর সেই কারণেই শুভেন্দু কুর্সিতে বসতেই ফোনে তাঁকে একটি বড় ঐতিহাসিক মিশন দেন শাহ।
আজকের যৌথ জনসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী উভয়ের বক্তব্য থেকেই ফোনে দেওয়া সেই ৩টি প্রধান নির্দেশ সামনে এসেছে, যা এতদিন সাধারণের আড়ালে ছিল। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী যেন গোটা বাংলায় নজিরবিহীন জাঁকজমক ও মহা সমারোহে পালন করা হয়। মহান এই স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্মরণে রাজ্যে একটি সুবিশাল ১২৫ ফুট উঁচু ব্রোঞ্জের মূর্তি স্থাপন করার নির্দেশ দেন শাহ। হুগলির জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেতে একটি আধুনিক মিউজিয়াম, স্মারক এবং যাতায়াতের জন্য উন্নত পরিকাঠামোর রাস্তা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিটি নির্দেশকে তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন। শাহের নির্দেশ মেনেই এবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, ১২৫ ফুটের সেই প্রস্তাবিত মূর্তির ভূমিপূজা ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, জিরাটের পৈতৃক ভিটেতে আন্তর্জাতিক মানের মিউজিয়াম তৈরির জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণের কাজও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতার এই মঞ্চ থেকে শুধু এই নির্দেশই নয়, রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু করা এবং গুন্ডাদমন বিল পাসের মতো একাধিক বড় ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
