প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় আন্দোলনের প্রতীক, সততার প্রতীক ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তিনি আমূল বদলে গিয়েছেন। আর তার বদলের কারণেই পশ্চিমবঙ্গের এত সর্বনাশ এবং এত দুর্নীতি। মাঝেমধ্যেই এই অভিযোগ করতে দেখা যায় বিরোধীদের। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করে একের পরে বোমা ফাটাতে শুরু করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনে তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রতিনিয়ত সভা সমিতি থেকে জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন তিনি। আর আজ নন্দীগ্রামের রক্তাক্ত সূর্যোদয়ের বর্ষপূর্তীর দিনে ২০১১ এর যে আসল পরিবর্তন হয়নি, মমতাকে সরিয়েই যে আসল পরিবর্তন পশ্চিমবঙ্গে হবে, তা বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বলা বাহুল্য, পশ্চিমবঙ্গের বুকে এখন প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া কাজ করছে। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রচুর দুর্নীতি, স্বজন পোষণ, আর্থিক কেলেঙ্কারি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। একসময় নন্দীগ্রাম আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকে মানুষকে একত্রিত করার কাজ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এখন তিনি দলবদল করে বিরোধী শিবিরে। আর আজ নন্দীগ্রামের রক্তাক্ত সূর্যোদয়ের বর্ষপূর্তির দিনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েই নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে নিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
এদিন নন্দীগ্রামে রক্তাক্ত সূর্যোদয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ২০১১ তে যে আসল পরিবর্তন হয়নি, তার ব্যাখ্যা করেন তিনি। শুভেন্দুবাবু বলেন, “আসল পরিবর্তন ২০১১ তে হয়নি। আমরা ভুল করেছি। একজন পরিবারবাদী, দুর্নীতিগ্রস্ত, বেকার যুবকদের সর্বনাশকারী, হিন্দু নিধনকারী এবং কার্যত উত্তর কোরিয়ার প্রশাসকের মত প্রতিহিংসা পরায়নকারী, তাকে এখানে মুখ্যমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে আমাদেরও অবদান ছিল। আমরা স্বীকার করি, আমরা ভুল করেছি। জনগনকে নিয়ে আমরাই আসল পরিবর্তন আনব। বোতলের পরিবর্তন হয়েছে, মদের পরিবর্তন হয়নি।”
