Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

আনন্দ বোসকে নাকি থ্রেট করা হয়েছে! রাজ্যপালের পদত্যাগ প্রসঙ্গে একি মন্তব্য মমতার?

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে পদত্যাগ করেন সিভি আনন্দ বোস। আর হঠাৎ করে তার এই পদত্যাগের খবর পেয়ে রীতিমত শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। গোটা ঘটনায় তিনি অত্যন্ত স্তম্ভিত বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি তার সঙ্গে নতুন যাকে রাজ্যপাল করা হয়েছে, তার ব্যাপারে আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও সোচ্চার হন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। যদিও বা কাকে রাজ্যপাল করা হবে, সেই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে কেন, তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। আর এসবের মধ্যেই এবার কিছুদিন আগে এই সিভি আনন্দ বোসকে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু প্রশ্ন তুললেও এবার তার প্রতি যে দরদ মুখ্যমন্ত্রীর উথলে পড়ছে, তা যে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণেই, তা বুঝতে বাকি নেই এই বিশেষজ্ঞদের। আর আজ ধর্না মঞ্চ থেকে সেই সিভি আনন্দ বোসের রাজ্যপাল পদ থেকে পদত্যাগ নিয়ে বড় মন্তব্য করে বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জগদীপ ধনকর এই রাজ্যের রাজ্যপাল থাকার সময় যেভাবে সরকারকে টাইট দিয়েছিলেন, যেভাবে সরকারের অনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হয়েছিলেন, তাতে যথেষ্ট বিপাকে পড়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপর সিভি আনন্দ বোস পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হয়ে আসেন। কিন্তু তার ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত ছিল না বিরোধীদের কাছে। কিন্তু তারপরেও সেই সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে যা নয় তাই বলে গিয়েছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি রাজভবনে তিনি নিরাপদ নন বলেও একসময় মন্তব্য করেছিলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেই সিভি আনন্দ বোস হঠাৎ করে পদত্যাগ করার পরেই শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করার জন্য, বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য এখন তার প্রতি যেন প্রশংসার ফুলঝুড়ি শুরু করে দিয়েছেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। আর আজ তিনি যে মন্তব্য করলেন, তারপর পাল্টা বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, যে কথা মুখ্যমন্ত্রী বললেন, তার পক্ষে তিনি যথাযোগ্য কারণ দেখাতে পারবেন তো? প্রমাণ দিতে পারবেন তো যে, ভয় দেখিয়ে, থ্রেট করে এই সিভি আনন্দ বোসকে পদত্যাগ করানো হয়েছে?

এদিন এসআইআরের প্রতিবাদে ধর্না মঞ্চ থেকে রাজ্যপাল পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের পদত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সিভি আনন্দ বোসকে কেন সরানো হয়েছে, আমি সব জানি। কিন্তু বলব না। ভয় দেখানো হয়েছে, থ্রেট করা হয়েছে। এটুকু আমি বলতে পারি। অনেকে তো চায় না, রাজভবনটা বিজেপির পার্টি অফিস হোক, ওখান থেকে টাকা বিলি হোক।” অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিতে চাইলেন যে, রাজ্যপালের পদ থেকে সিভি আনন্দ বোস এমনি এমনি পদত্যাগ করেননি। তাকে চাপ দিয়ে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করা হয়েছে। এখন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কি এই সংক্রান্ত কোনো কারণ আছে? যদি বিজেপি পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীকে এই ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করে বসেন, তাহলে তিনি সেই কারণ প্রমাণ স্বরূপ দেখাতে পারবেন তো? তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ঠ মহল।

Exit mobile version