প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যেখানেই বিপদ হয়, যেখানেই মানুষ অত্যাচারিত হয়, সেখানেই পৌঁছে যান। এক্ষেত্রে তিনি কোনো দল, রং কিছুই দেখেন না। সম্প্রতি কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রচুর মানুষের প্রাণ হারিয়েছে। কিন্তু তারপরেও প্রশাসনের সদর্থক মনোভাব দেখতে পাচ্ছে না বিরোধীরা। আর এর মধ্যেই গতকাল শুভেন্দুবাবু জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি আজ বিজেপি বিধায়কদের ২০ জনকে নিয়ে সেই ঘটনাস্থলে যাবেন। আর সেই খবর পেয়েই পুলিশের অতিসক্রিয়তা নজরে আসে। যেখানে পুলিশের পক্ষ থেকে রীতিমত ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়করা যাতে সেখানে যেতে না পারেন, তার কৌশল অবলম্বন করা হয়। তবে প্রশাসন যখন সঠিক ভূমিকা নেবে না, তখন কেউ যেতে চাইলেও তাদের যেভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েই সোচ্চার হলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
এই রাজ্যের প্রশাসন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দল বিজেপিকে যে অত্যন্ত ভয় পাচ্ছে, তা বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট। যেখানেই শুভেন্দুবাবু কর্মসূচি করছেন, সেখানেই পুলিশ তাকে অনুমতি দিচ্ছে না। বারবার করে আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে আসছেন তিনি। কিন্তু তারপরেও তিনি যখন এত বড় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর মানুষের পাশে দাঁড়াতে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে পৌঁছে যেতে চান, সেখানেও পুলিশের বাধা লক্ষ্য করা গিয়েছে। যার ফলে প্রশ্ন উঠছে যে, রাজ্যের মন্ত্রীরা উপযুক্ত সময় না পৌঁছনোর পর ঘন্টার পর ঘন্টা পেরিয়ে গেলে যখন সেখানে যান, তখন তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু বিরোধী দলের নেতা এবং বিজেপি বিধায়করা কেন সেখানে পৌঁছতে চাইলেও তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হবে না? এসব কি প্রশাসনের দলদাসের মত মনোভাব নয়? আর এবার সেই বিষয় নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
এদিন এই ব্যাপারে দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “যাদের যাওয়া উচিত ছিলো, মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে দমকল মন্ত্রী, তারা যাননি। আর অন্যান্যরা যখন যাবে দেখা করতে, কমপক্ষে সান্তনা তো দিতে পারি আমরা গিয়ে, এতগুলো মানুষ সর্বহারা, স্বজনহারা হয়েছেন। যদি সম্ভব হয়, তাহলে আর্থিক সাহায্যও করা যাবে। কিন্তু ওনারা যাবেন না, করবেন না, আবার কাউকে করতেও দেবেন না, এটা তো হতে পারে না। ওখানে ১৬৩ ধারা জারি করে দিয়ে সবার যাতায়াত বন্ধ করে দেবেন, মানুষ সমবেদনা জানাতে পারবে না। এটা হতে পারে না। অমানবিক।”
